আকাশপথে ভারতের দাপট বাড়বে কয়েক গুণ! সবুজ সংকেত পাচ্ছে ‘সুপার সুখোই’ প্রজেক্ট

ভারতীয় বায়ুসেনার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত Su-30MKI যুদ্ধবিমান এবার পেতে চলেছে এক অভাবনীয় ভোলবদল। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সুপার সুখোই’ আপগ্রেড প্রোগ্রামটি আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (CCS) কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। হ্যাল (HAL) সূত্রের খবর, এই মেগা প্রজেক্টের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে।

৮৪টি যুদ্ধবিমানের ভোলবদল প্রাথমিক পর্যায়ে বায়ুসেনার বহরে থাকা ৮৪টি Su-30MKI বিমানকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে মুড়ে ফেলা হবে। HAL, বায়ুসেনা এবং DRDO-এর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনার পর এই আপগ্রেডের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত ২০৪০ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধবিমানগুলিকে বিশ্বের সেরা ফাইটার জেটগুলোর সমকক্ষ রাখাই এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য।

কী কী থাকছে ‘সুপার সুখোই’-তে? এই আপগ্রেডেশনের পর সুখোই হবে আরও মারাত্মক এবং নির্ভুল। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • অত্যাধুনিক AESA রাডার: এটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।

  • AI ককপিট: ককপিটে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক মাল্টি-ফাংশন ডিসপ্লে এবং ভয়েস কমান্ড সিস্টেম।

  • অস্ত্রভাণ্ডার: এতে যুক্ত হবে ভারতের নিজস্ব Astra Mk-1 এবং Astra Mk-2 এর মতো দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

  • সুরক্ষা কবচ: শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে থাকছে উন্নত সেলফ-প্রটেকশন জ্যামার পড এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা।

২০৪০-এর লক্ষ্যমাত্রা বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সুখোই। কিন্তু বহু বিমান ইতিমধ্যেই পরিষেবার দ্বিতীয় দশকে পা রেখেছে। তাই আধুনিক যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে এই আপগ্রেড অপরিহার্য ছিল। HAL-এর নাশিক বিভাগ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে পঞ্চম প্রজন্মের AMCA যুদ্ধবিমান না আসা পর্যন্ত ‘সুপার সুখোই’-ই হবে ভারতের আকাশসীমার প্রধান প্রহরী।