নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির ‘মিত্র’! অখিলেশ যাদবের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় লখনউ

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের ঠিক আগে রাজনীতির পারদ চরম সীমায় চড়িয়ে দিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করতে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি মিলে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অখিলেশের দাবি, এই নীল নকশা কেবল উত্তরপ্রদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গকেও টার্গেট করছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার ডিজিটাল কারসাজি: অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, সরকার কিছু পেশাদার সংস্থাকে নিয়োগ করেছে যারা দিল্লি এবং লখনউতে বসে ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করছে। যে বুথগুলোতে সমাজবাদী পার্টি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী, সেখানে পরিকল্পিতভাবে ‘ফর্ম-৭’ ব্যবহার করে গণহারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি কোনো সাধারণ ত্রুটি নয়, বরং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে বেছে বেছে সপা সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।” এই ঘটনা অনেক এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং সাংবাদিক ও ডিজিটাল মিডিয়া কর্মীরা হাতে-নাতে এই অনিয়ম ধরে ফেলেছেন বলে তিনি জানান।

বাংলা ও বিহারের প্রসঙ্গ এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই অখিলেশ অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির মিত্র হয়ে উঠেছে। তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানেও বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনমতকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে যেভাবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোর পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।” অখিলেশ অবিলম্বে এই অপব্যবহার বন্ধ এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।