এক রাতে ১২ বার কাঁপল সিকিম! ঘুমানোর বদলে রাস্তায় রাত কাটল পর্যটকদের, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পরিবেশবিদরা

এক রাতের ব্যবধানে ১২ বার ভূমিকম্প! প্রকৃতির এমন রুদ্রমূর্তিতে কার্যত বিনিদ্র রাত কাটালেন সিকিমবাসী ও কয়েক হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় কেঁপে উঠল হিমালয়ের এই পাহাড়ি রাজ্য। রিখটার স্কেলে মূল কম্পনের মাত্রা ৪.৫ থাকলেও, একের পর এক ১১টি আফটারশকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সমতলেও। যদিও এখনও পর্যন্ত বড়সড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি।
সিকিম আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় রাত ১টা ৯ মিনিটে পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকায়। এরপর গ্যাংটক, মঙ্গন ও নামচিকে কেন্দ্র করে পর পর কম্পন হতে থাকে। ৪.৩ ও ৪.৫ মাত্রার এই কম্পন নেপাল, ভুটান ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক ড. রঞ্জন রায়ের মতে, হিমালয় একটি নবীন পর্বতমালা, যেখানে বড় মাপের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে। অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং পাহাড় কেটে টানেল বা ড্যাম তৈরির ফলে প্রকৃতির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, এটি তারই সতর্কবার্তা হতে পারে।
এই মুহূর্তে সিকিম পর্যটকে ঠাসা। রাতভর কম্পনের জেরে উদ্বেগে রয়েছেন ট্যুর অপারেটররা। অনেকেই সফর বাতিল করার কথা ভাবছেন। তবে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমকে ‘অতি ভূমিকম্পপ্রবণ’ বা জোন-৫ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করছে।