‘সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে সরকার’, অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে রণক্ষেত্র বিধানসভা!

বাজেট অধিবেশনের মাঝেই শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, “এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে এবং তাদের ক্রিমিনাল তৈরি করছে।” এই মন্তব্য ঘিরেই উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভার কক্ষ, যার পাল্টা জবাব দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের শুরুতেই ছিল আক্রমণাত্মক সুর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়লেও কেন সেখান থেকে চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে না? কেন অপরাধমূলক কাজে নাম জড়াচ্ছে কিছু মানুষের? তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন ফিরহাদ হাকিম। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু প্রাণ দিয়েছেন। এপিজে আব্দুল কালাম বা কাজী নজরুল ইসলাম কি ক্রিমিনাল ছিলেন? আপনাদের ধিক্কার!” ফিরহাদ দাবি করেন, এমন অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য অগ্নিমিত্রাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তৃণমূল বিধায়করা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, পাল্টা স্লোগান দেন বিজেপি বিধায়করাও। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন শাসকদলের বিধায়করা। শেষ পর্যন্ত সম্প্রীতি রক্ষায় এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত না করার স্বার্থে অগ্নিমিত্রা পালের বিতর্কিত মন্তব্যটি বিধানসভার রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। বিধানসভার বাইরে এসেও অগ্নিমিত্রা নিজের অবস্থানে অনড় থেকে প্রশ্ন তোলেন, গত ১৫ বছরে মাদ্রাসা থেকে কতজন বিজ্ঞানী বা আইএফএস অফিসার তৈরি হয়েছে তার খতিয়ান দিক সরকার।