“সংখ্যালঘুরা কি অপরাধী?” বিধানসভায় অগ্নিমিত্রা-ফিরহাদ চরম সংঘাত, নজিরবিহীন উত্তাল বাজেট অধিবেশন!

২০২৬-এর রাজ্য বাজেট পেশের পর আলোচনার শুরুতেই শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ১০ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার মাদ্রাসার বরাদ্দ বাড়িয়ে আসলে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ মদত দিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই সরকার সংখ্যালঘুদের ‘ক্রিমিনাল’ হিসেবে গড়ে তুলছে। এই মন্তব্য শোনার পরেই শাসকদলের বিধায়করা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
অগ্নিমিত্রাকে পাল্টা কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “সংখ্যালঘুরা ক্রিমিনাল নয়। আমরাও এই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছি। আপনারা আমাদের ঘৃণা করেন। এপিজে আবদুল কালাম বা কাজি নজরুল ইসলাম কি তবে ক্রিমিনাল ছিলেন? আপনাদের ধিক্কার! আপনারা আমাদের লজ্জা।” যদিও অগ্নিমিত্রা পরে সাফাই দেন যে, তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি, বরং বর্তমান সরকারের নীতি নিয়ে কথা বলেছেন।
বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনার কথায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। আপনার উচিত এই শব্দ প্রত্যাহার করা।” তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ ও পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন। অধ্যক্ষ মনে করিয়ে দেন যে, সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সদনে কথা বলার সময় বিধায়কদের আরও যত্নবান হওয়া উচিত।