মুর্শিদাবাদে ফের ‘কাজের চাপে’ বিএলও-র মৃত্যু! প্রশাসনিক চাপে কি বলি হতে হচ্ছে নিচুতলার কর্মীদের?

মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় ফের এক বুথ স্তরের আধিকারিকের (বিএলও) আকস্মিক মৃত্যুতে চরম উত্তেজনা ছড়ালো। শ্রীপুর নামুপাড়া শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা তথা বিএলও মায়া মুখোপাধ্যায়ের (৫৮) মৃত্যু ঘিরে শুধু শোকের ছায়া নয়, বরং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাস্তায়। অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে এসআইআর-এর অসহ্য কাজের চাপই প্রাণ কেড়েছে এই প্রৌঢ়া শিক্ষিকার।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কাজ করার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন মায়া দেবী। তড়িঘড়ি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার পরিজনদের দাবি, বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি কখনই বিএলও-র দায়িত্ব নিতে চাননি। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশের জাঁতাকলে পড়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেই বোঝা কাঁধে নিতে হয়েছিল। তাঁর এক আত্মীয় জানান, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গ্রামবাসীদের রোষের ভয় এবং সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রবল মানসিক চাপে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।”

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল বনাম বিজেপি-র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তের বলি হতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের। অন্যদিকে, একের পর এক বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ নাগরিকরা। জেলা স্তরের কর্মীরা এখন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। মায়া মুখোপাধ্যায়ের এই মৃত্যু কি প্রশাসনিক ব্যবস্থার অমানবিক চাপের দিকে আঙুল তুলছে না? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মুর্শিদাবাদে।