‘ননসেন’ শমীকের জেলযাত্রা! ধর্ষণের অভিযোগে মিলল না জামিন, কতদিন পুলিশি হেফাজতে জনপ্রিয় ইউটিউবার?

কয়েকদিন আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ছিলেন সাহসিকতার প্রতীক, এক ভিডিওর মাধ্যমে কুড়িয়েছিলেন অগাধ প্রশংসা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘ননসেন’ ওরফে শমীক অধিকারীর ঠিকানা এখন শ্রীঘর। এক তরুণীকে আটকে রেখে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালত শমীককে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২ ফেব্রুয়ারি। ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর অভিযোগ, বেহালা এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্দি করে রাখেন শমীক। অভিযোগকারিণীর দাবি, বাড়ি বদলের সাহায্যের বাহানায় তাঁকে ডেকে নিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারারাত ধরে চলে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অভিযোগকারিণীর আইনজীবীর দাবি, তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে এবং গোপনাঙ্গে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা পাশবিক অত্যাচারের প্রমাণ দেয়।
তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শমীক। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে যখন বেহালা থানা থেকে আলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চাদরে মুখ ঢাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক চিৎকার করে বলেন, “আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।”
আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী শমীকের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, শমীকের পক্ষে সওয়াল করেন এক বিজেপি ঘনিষ্ঠ আইনজীবী। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। যে মানুষটি ‘বাটন’ ভিডিওর মাধ্যমে রাতারাতি নেটদুনিয়ার নায়ক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর এই অধঃপতন দেখে হতবাক অনুগামীরা। আপাতত ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হবে এই জনপ্রিয় ইউটিউবারকে।