রক্তাক্ত ইসলামাবাদ! জুমার নামাজ চলাকালীন শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, মৃত ৫০ ছাড়াল

পাকিস্তানে ধর্মীয় চরমপন্থা এখন আর কেবল অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খোদ রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে (ইমামবাড়া) শুক্রবারের নামাজের সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ প্রাণ কেড়ে নিল ৫০ জনেরও বেশি মানুষের। আহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে। এই ঘটনায় পাকিস্তান জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং ইসলামাবাদে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

টার্গেট কেন কেবল শিয়ারা? পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০-১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম। ইরানের পর এখানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনগোষ্ঠীর বাস। তাসত্ত্বেও কয়েক দশক ধরে এই সম্প্রদায় চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার। আইএস (IS) এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর মতো উগ্র সুন্নি গোষ্ঠীগুলো শিয়াদের ‘কাফের’ বলে মনে করে। বিশেষ করে মহরমের সময় বা ধর্মীয় সমাবেশের সময় এই ঘৃণ্য প্রচার আরও তীব্র হয়। করাচির মতো বড় শহরগুলোর দেওয়ালে ‘শিয়ারা কাফের’ এমন স্লোগান লেখা থাকা এখন পাকিস্তানের নিষ্ঠুর বাস্তব।

ঐতিহাসিক বিড়ম্বনা: সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজে একজন শিয়া ছিলেন। জিন্নাহ যে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিরাপদ পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তা ধূলিসাৎ। বর্তমানে পাকিস্তানে হাজারা শিয়ারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁদের চেহারার ভিন্নতার কারণে সন্ত্রাসীরা সহজেই তাঁদের চিহ্নিত করে হত্যা করতে পারছে।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়ানক পরিস্থিতি: ২০২৫ সালের ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স’ অনুযায়ী পাকিস্তান এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক সন্ত্রাস-প্রভাবিত দেশ। টিটিপি-র হামলা ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদে এই বিস্ফোরণ প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসীরা এখন খাইবার পাখতুনখোয়া বা বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকা ছেড়ে রাজধানীর মতো হাই-সিকিউরিটি জোনগুলোতেও অনায়াসে থাবা বসাচ্ছে।