প্রতি দুটি বিমানের একটিতে যান্ত্রিক গোলযোগ! ইন্ডিগো-এয়ার ইন্ডিয়াকে নিয়ে চিন্তায় কেন্দ্র

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা নিয়ে লোকসভায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করল বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭৫৪টি বিমানের ওপর নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৭৭টি বিমানেই বারবার কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। অর্থাৎ, দেশের প্রায় অর্ধেক বিমানই কোনো না কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
কোন এয়ারলাইনস সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তথ্য অনুসারে, সবথেকে বেশি ত্রুটি ধরা পড়েছে ইন্ডিগোর বিমানে (১৪৮টি)। এরপরই রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া (১৩৭টি) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (৫৪টি)। স্পাইসজেট ও আকাসা এয়ারের বিমানেও যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা গেছে।
ডিজিসিএ-র কড়া নজরদারি: বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (DGCA) সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গত এক বছরে ৩,৮৯০টি নজরদারি পরিদর্শন এবং ৪৯২টি র্যাম্প চেক করেছে। যদিও সরকার দাবি করেছে যে, ২০২৩ সালের তুলনায় (৪৪৮টি ত্রুটি) ২০২৫ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির সংখ্যা কমে ৩৫৩-তে দাঁড়িয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ত্রুটি প্রাণঘাতী না হলেও ভাঙা আসন বা ত্রুটিপূর্ণ আলোর মতো বিষয়গুলো যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত করে।
ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রী হয়রানি: পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে যে, গত তিন মাসে ইন্ডিগো ৬,৯৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে প্রায় ১০.৮ মিলিয়ন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি সিস্টেম ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকে এর জন্য দায়ী করা হয়েছে। ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই বিমান সংস্থাটিকে কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।