স্বাধীনতার দোরগোড়ায় বালুচিস্তান? পাক সেনার ঘুম কেড়েছে বিদ্রোহীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও নারী শক্তি

দশকের পর দশক ধরে অশান্তির আগুনে জ্বলছে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিদ্রোহ কেবল তীব্রই হয়নি, বরং এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং নাইট ভিশন ডিভাইসের সাহায্যে পাক সেনাদের নাস্তানাবুদ করছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বিদ্রোহীদের কাছে এমন সব আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে যা অনেক সময় পাক সেনার কাছেও থাকে না। এই আন্দোলনে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, যা স্থানীয় জনগণের গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে বালুচিস্তানের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের ৪৪ শতাংশ, যা আয়তনে ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মিলিত আয়তনের চেয়েও বড়। ৩,৪৭,১৯০ বর্গকিলোমিটারের এই প্রদেশটির একদিকে ইরান ও আফগানিস্তান, অন্যদিকে আরব সাগরের বিশাল উপকূল। বিশেষ করে চিনের বিনিয়োগে তৈরি গ্বাদার গভীর সমুদ্র বন্দর এবং সিপেক (CPEC) প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বালুচিস্তান এখন বিশ্ব রাজনীতির দাবার ঘুঁটি।

প্রাকৃতিক সম্পদে ঠাসা এই অঞ্চলটি গ্যাস, সোনা, তামা এবং কয়লার ভাণ্ডার। তা সত্ত্বেও বালুচ জনগণের অভিযোগ, তাদের সম্পদ লুঠ করে ইসলামাবাদ ও চিন লাভবান হচ্ছে, অথচ স্থানীয়রা চরম দারিদ্র্যের শিকার। যদিও ২০২৫ সালের মে মাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে তার কোনো স্বীকৃতি মেলেনি। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা অন্য কোনো দেশের কূটনৈতিক সমর্থন ছাড়া এই স্বাধীনতার স্বপ্ন আপাতত প্রতীকী হয়েই রয়ে গেছে। তবুও, চিনের ক্রমবর্ধমান পিছুটান এবং বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।