আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছেড়ে স্টিয়ারিং ধরলেন হিমাচলের মেয়ে! নেহা ঠাকুরের জীবনকাহিনি হার মানাবে সিনেমাকেও

হিমাচল প্রদেশের ২৫ বছর বয়সী তরুণী নেহা ঠাকুর প্রমাণ করে দিলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে দুর্গম পাহাড়ি পথও হার মানে। যে সমাজে ট্রাক চালানোকে আজও কেবল ‘পুরুষদের কাজ’ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে নেহা আজ একজন সফল পেশাদার ট্রাক চালক। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে তিনি আজ এক পরিচিত মুখ এবং প্রভাবশালী ভ্লগার।

এয়ার হোস্টেস থেকে ট্রাকের স্টিয়ারিং: নেহার এই যাত্রাপথ কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। স্নাতক হওয়ার পর তিনি এয়ার হোস্টেস হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। যখন তাঁর বন্ধুরা আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখন নেহার মন পড়ে থাকত ভারী ইঞ্জিনের গর্জনে। গ্ল্যামার জগত বা ডেস্কে বসে কাজ করার প্রতি তাঁর কোনোদিনই আগ্রহ ছিল না। বড় বড় ট্রাক আর হাইওয়ে বরাবর অজানাকে জানার নেশাই ছিল তাঁর চালিকাশক্তি।

গোপনে শেখা এবং পরিবারের সমর্থন: নিজের প্যাশনকে অনুসরণ করতে নেহা এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বাবা-মা’কে না জানিয়েই তিনি গোপনে ট্রাক চালানো শেখেন। সুযোগ পেলেই বাবার ট্রাক নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন অভ্যাসের জন্য। যখন তিনি পরিবারের কাছে এই সত্য প্রকাশ করেন, তখন তাঁরা প্রথমে অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের আত্মবিশ্বাস আর জেদ দেখে শেষপর্যন্ত তাঁরা পূর্ণ সমর্থন জানান।

লোকাল রুট থেকে লং ডিস্ট্যান্স: শুরুটা হয়েছিল স্থানীয় এলাকায় মালপত্র পরিবহণের মাধ্যমে। বর্তমানে নেহা দিল্লির সীমানা ছাড়িয়ে দূর-দূরান্তের লং রুটে বিশাল ট্রাক নিয়ে যাতায়াত করেন। তাঁর বোনের পরামর্শে তিনি এই যাত্রাপথের ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন। আজ ইউটিউবে তাঁর ৪ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং ইনস্টাগ্রামে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে। তাঁর ভ্লগের মাধ্যমে তিনি ট্রাক চালকদের জীবনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।

সংগ্রাম ও সম্মানের লড়াই: নেহা জানান, এই পথ সহজ ছিল না। গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রাক চালকরা দেশকে সচল রাখেন। কখনও খাবার জোটে, কখনও জোটে না। তবে তাঁর মতে সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা হলো সমাজের কাছে সম্মান না পাওয়া। একজন নারী হিসেবে এই পুরুষশাসিত পেশায় বাধা ছিল দ্বিগুণ, কিন্তু তিনি পিছু হঠেননি।

নেহার বার্তা স্পষ্ট— “স্টিয়ারিং হুইল কোনো লিঙ্গ চেনে না, এটি কেবল দক্ষতা চেনে।” আজ তিনি শুধু পণ্যই পৌঁছে দিচ্ছেন না, ভেঙে দিচ্ছেন সমাজের পুরোনো ধ্যানধারণাও।