“পরীক্ষা মানেই জীবনের শেষ নয়!” ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় পড়ুয়াদের সাফল্যের রহস্য শেখালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

শুক্রবার ‘পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬’-এর নবম সংস্করণে সারা দেশের কোটি কোটি পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়াম থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের পরীক্ষার চাপ মুক্ত হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর সাফ কথা, “জীবনটা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বরং পরীক্ষাই জীবনের উন্নতির একটি মাধ্যম মাত্র।”

নম্বর না কি দক্ষতা? ভারসাম্যের নিদান প্রধানমন্ত্রীর: এদিনের অধিবেশনে এক পড়ুয়ার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জীবনে সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। পড়াশোনা, দক্ষতা এবং শখ—সবই যেন একসাথে এগোয়। কোনো একটার দিকে বেশি ঝুঁকলে সার্বিক উন্নতি থমকে যেতে পারে।” তিনি পড়ুয়াদের পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার ওপর জোর দিতে বলেন।

কমফোর্ট জোন ছাড়ো, বড় স্বপ্ন দেখো: পড়ুয়াদের উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বপ্ন না দেখাটা একটা অপরাধ। বড় স্বপ্ন দেখো এবং তা সফল করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করো।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যারা আরামের গণ্ডি বা ‘কমফোর্ট জোন’-এর মধ্যে আটকে থাকে, তারা জীবনে বড় সাফল্য পায় না। বড় কিছু অর্জন করতে হলে চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়ারও পরামর্শ দেন।

সময়ের সঠিক ব্যবহার ও এআই (AI): সময় ব্যবস্থাপনাকে জীবনের অন্যতম প্রধান দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করে মোদী পড়ুয়াদের রোজকার কাজের একটি বাস্তবসম্মত তালিকা (To-Do List) তৈরি করতে বলেন। পাশাপাশি, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, “এআই-কে মানুষের প্রচেষ্টার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।”

শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য বার্তা: শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ুয়ারা যেভাবে শিখতে চায়, সেই গতিতেই শিক্ষা দেওয়া উচিত। আর অভিভাবকদের প্রতি তাঁর আবেদন, সন্তানদের ওপর অহেতুক চাপ না দিয়ে তাদের নিজস্ব শেখার ধরনকে সম্মান জানানো উচিত। অনুষ্ঠান শেষে মানসী নামে এক ছাত্রীর গাওয়া “তু বড়তা চল” গানটির ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘ভিকশিত ভারত’ গড়ার কারিগর হলো আজকের এই ছাত্রছাত্রীরাই।