তাতা-বাম জোট অতীত! ২০২৬-এ ‘একলা চলো’ নীতি কংগ্রেসের, ২৯৪ আসনেই লড়বে হাত শিবির

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি ঘটাল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বামফ্রন্টকে একপ্রকার ব্রাত্য করে দিয়েই ‘একলা চলো’ নীতি ঘোষণা করল শতাব্দী প্রাচীন এই দল। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের ইন-চার্জ গুলাম আহমদ মীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই এককভাবে লড়বে কংগ্রেস। কোনো জোট বা আসন সমঝোতার পথে তারা হাঁটবে না।

এদিন কলকাতায় রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকের পর গুলাম আহমদ মীর বলেন, “আজকের বৈঠকে দলের সমস্ত স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সবার মতামত শোনা হয়েছে। আমাদের নিচুতলার কর্মী ও ক্যাডারদের স্পষ্ট দাবি ছিল যে, কংগ্রেসকে তার হারানো জমি ফিরে পেতে হলে একক শক্তিতেই লড়তে হবে। জাতীয় নেতৃত্বও রাজ্য কংগ্রেসের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেসের ভাঁড়ার কার্যত শূন্য থাকায় এবার আর সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না দল।

কংগ্রেসের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা একাই লড়বেন। অন্যদিকে, বিজেপিও তাদের ২৯৪টি আসনের জন্য ইন-চার্জ নিয়োগ করে সংগঠন মজবুত করতে শুরু করেছে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেসের একক ভাবে নামার সিদ্ধান্ত বাংলার ভোট সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপি শিবির অবশ্য কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার মতে, “বিরোধীদের কোনো লক্ষ্য নেই, তারা স্রেফ সস্তার রাজনীতি করছে।” তবে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো কংগ্রেসের পুরনো গড়গুলোতে দলের এই ‘একলা চলো’ ডাক কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জোগাতে পারে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বামফ্রন্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সংখ্যালঘু এবং গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬-এর ভাগ্য।