লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৫০০ না ৩০০০? মমতা-শুভেন্দুর দড়ি টানাটানি, ভোটের মুখে তোলপাড় রাজ্য!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি বেজে গেল আজ থেকেই? অন্তর্বর্তী বাজেট পেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা চত্বর। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সরাসরি ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্য সরকার দিচ্ছে ১৫০০ টাকা, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই পরিমাণ দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করা হবে—এই চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন শুভেন্দু।
এদিন বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ভাতা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে (তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ক্ষেত্রে যা আরও বেশি)। সরকারের এই পদক্ষেপকে যখন তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করা হচ্ছে, তখনই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
শুভেন্দু অধিকারী এই বাজেটকে ‘দিশাহীন’ এবং ‘মিথ্যার দলিল’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ভোট কেনার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে না থেকে তিনি এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসলেন। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানান, “রাজ্য সরকার যে ৫০০ টাকা বাড়াল, তাতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না। বিজেপি যদি বাংলার ক্ষমতায় আসে, তবে প্রতিটি যোগ্য মহিলাকে মাসে ৩০০০ টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের মহিলাদের মন জয় করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ একটি অব্যর্থ অস্ত্র। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রকল্প তৃণমূলের জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। এবার সেই অস্ত্রেই তৃণমূলকে ঘায়েল করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। একদিকে রাজ্য সরকার যখন ভাঁড়ারের টান সামলে প্রকল্পের টাকা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে শুভেন্দুর এই ‘ডাবল ধামাকা’ প্রতিশ্রুতি ২০২৬-এর আগে ভোটারদের কোন দিকে টানে, সেটাই এখন দেখার। বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই টানটান উত্তেজনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলার রাজনীতিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই হতে চলেছে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু।