সুপ্রিম কোর্টে ডিএ-যুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়! মিষ্টিমুখ করে উৎসবে মাতলেন সরকারি কর্মীরা, হুঁশিয়ারি ভাস্কর ঘোষের

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে ঘোষণা করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে। রায় ঘোষণার পরেই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিজয়োল্লাস এবং মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। তবে এই জয়ের আবহেও সুর চড়িয়েছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠকে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেন এবার আগুন নিয়ে না খেলেন। ডিএ কর্মচারীদের আইনস্বীকৃত ন্যায্য অধিকার।”
ভাস্কর ঘোষ জানান, পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর যে নির্দেশ আদালত দিয়েছে, তা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে নামী আইনজীবীদের নামিয়ে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কঠিন এই লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আগামী ৬ মার্চের ডেডলাইন: আদালতের রায়কে বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ভাস্কর ঘোষ সাফ জানান, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা যদি মিটিয়ে দেওয়া না হয়, তবে রাজ্যে কর্মচারী আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন ও ভয়ংকর অধ্যায় শুরু হবে। তাঁর দাবি, ডিএ পাওয়া গেলে শুধু কর্মীরা উপকৃত হবেন না, বাজারে অর্থের জোগান বাড়বে যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ: রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মঞ্চ। আগামী ১৫ মে সেই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। ভাস্কর ঘোষের মতে, এটি ছিল ‘বাঙালি অস্মিতার লড়াই’। তবে শুধুমাত্র আদালতের রায়েই যে কাজ হবে না, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সব কর্মচারীকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মচারীদের অধিকার নিয়েও আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।