IAS-IPS হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে ট্রেডিংয়ের নেশা! ১ কোটি টাকা খুইয়ে আজ দেউলিয়া ‘সাফল্যের সন্তান’

শেয়ার বাজারের নেশা কীভাবে একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিহাল গুপ্তের শেয়ার করা এক হৃদয়বিদারক কাহিনি। জনৈক এক মেধাবী যুবক, যিনি টিয়ার-১ কলেজ থেকে বিটেক ও এমবিএ করার পর ১২ লক্ষ টাকার প্যাকেজে চাকরি করতেন, আজ তিনি ৭০ লক্ষ টাকার ঋণের জালে বিদ্ধ।

সফলতা থেকে সর্বনাশের পথে: ২০১৩ সালে নিজের বাড়ি কিনে পরিবারের গর্ব হয়ে ওঠা এই যুবক অপশন ট্রেডিংয়ের মোহে পড়ে ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন। শুরুতে কিছু লাভ তাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু ধীরে ধীরে লোকসান বাড়তে থাকে। হারানো টাকা পুনরুদ্ধারের আশায় তিনি ব্যক্তিগত ঋণ (Personal Loan) নেন এবং হোম লোনের সীমা বাড়িয়ে দেন। গত ১০ বছরে F&O ট্রেডিংয়ে তিনি ১ কোটি টাকারও বেশি হারিয়েছেন। আজ ৩৫ বছর বয়সে তিনি অবিবাহিত এবং ঋণের ইএমআই মেটাতে না পেরে নিজের শেষ সম্বল বাড়িটি বিক্রির কথা ভাবছেন।

বাজেট ২০২৬ ও সেবি-র সতর্কতা: এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই ২০২৬-এর বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার সিকিউরিটিজ লেনদেন কর (STT) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অপশন প্রিমিয়ামের উপর কর ০.১% থেকে বাড়িয়ে ০.১৫% করা হয়েছে। সেবি-র (SEBI) রিপোর্ট বলছে, ভারতে ১০ জন ট্রেডারের মধ্যে ৯ জনই লোকসান করেন। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কর বৃদ্ধির উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়, বরং ফিউচার ও অপশনের মতো ‘জুয়া’ থেকে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় রক্ষা করা।

Samrat Das
  • Samrat Das