নির্বাচন কমিশন বনাম মমতা! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক হলফনামা জমা দিয়ে কী দাবি করল কমিশন?

রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন সংঘাত। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করছেন, ঠিক তখনই পাল্টা আসরে নামল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে কমিশন দাবি করেছে, বাংলায় নির্বাচনী আধিকারিকদের ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাস এখন কার্যত ‘প্রবণতা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কমিশন।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। প্রধান বিচারপতির সামনে তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন একতরফা কাজ করছে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন পাল্টা হলফনামা পেশ করে বিস্ফোরক সব দাবি সামনে আনে। কমিশনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য আধিকারিকদের মধ্যে গভীর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। উদাহারণ হিসেবে গত ১৪ জানুয়ারির সাংবাদিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে, যেখানে জনৈক ‘হরি দাস’ নামে এক মাইক্রো-অবজারভারকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নিশানা করেছিলেন বলে অভিযোগ।
হলফনামায় আরও জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় মুর্শিদাবাদের ৯ জন মাইক্রো-অবজারভার ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিইও-কে (CEO) চিঠি লিখে কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, গত ১৫ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরে এসআইআর (SIR) কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ জন মিলে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি কমিশনের। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিশনের সাফ কথা, পশ্চিমবঙ্গই দেশের একমাত্র রাজ্য যেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, রাজ্যের সিইও-কে ‘Y’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।
এই ইস্যুতে তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “নিজেদের দোষ ঢাকতে কমিশন মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। অন্য রাজ্য থেকে কেন মাইক্রো-অবজারভার আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তো খোদ আদালতও তুলেছে।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “মাইক্রো-অবজারভারদের কাজ করতে কীভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তার অডিও ভাইরাল হয়ে সব ফাঁস করে দিয়েছে।” এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই জটিল পরিস্থিতিতে কী নির্দেশ দেয়।