মাধ্যমিক চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রে তাণ্ডব! মোবাইল নিয়ে ধরা পড়ে পরিদর্শককে পেটালেন শিক্ষকরাই, সাসপেন্ড প্রধান শিক্ষকসহ ৮

মাধ্যমিক পরীক্ষার আবহে খাস বর্ধমানে নজিরবিহীন তাণ্ডব! পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বেজে ওঠায় কৈফিয়ত চাওয়ায় খোদ স্কুল পরিদর্শককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকার আঝাপুর হাইস্কুলের এই ঘটনায় এবার বজ্রকঠিন পদক্ষেপ নিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এক জন ক্লার্কসহ মোট ৮ জন শিক্ষক-কর্মীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, সেন্টার সচিব ও কয়েকজন নির্দিষ্ট আধিকারিক ছাড়া কারও মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি নেই। অভিযোগ, সোমবার ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই এক শিক্ষকের মোবাইল বেজে ওঠে। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রশান্ত কবিরাজ মোবাইলটি দেখে প্রশ্ন করতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন সেখানকার কয়েকজন শিক্ষক। অভিযোগ, প্রায় ৭-৮ জন শিক্ষক মিলে প্রশান্তবাবুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। আহত অবস্থায় ওই স্কুল পরিদর্শক বর্তমানে অনাময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লজ্জায় মাথা নত গ্রামবাসীদের: এই ঘটনায় রীতিমতো লজ্জিত আঝাপুরের বাসিন্দারা। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সৌমিক দত্ত বলেন, “শিক্ষকরাই যদি সমাজের মেরুদণ্ড হয়ে এমন আচরণ করেন, তবে ছাত্ররা কী শিখবে? এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।” গ্রামবাসী সুভাষচন্দ্র ঘোষের মতে, বাইরের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছে, তাদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শিক্ষকদের এই আচরণ চরম নিন্দনীয়।

পর্ষদের কড়া পদক্ষেপ: ঘটনার পরই জেলা মনিটরিং কমিটি তদন্তে নামে এবং মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত পাল নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জনকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। পর্ষদ এখন খতিয়ে দেখছে, অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে মাধ্যমিকের বাকি দিনগুলিতে আঝাপুর স্কুলে কীভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।