আমেরিকাকে পাল্টা হুঙ্কার ডোভালের! ট্রাম্পের ধমক-চমকে দমে না গিয়ে কীভাবে ঘাড় সোজা রাখল ভারত?

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অনুরোধ’ মেনেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু ব্লুমবার্গের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে অন্য কথা। এই শুল্ক হ্রাসের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের এক কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের অকুতোভয় রণকৌশল।
ডোভালের সেই ‘বিস্ফোরক’ বার্তা: ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক বাড়ানো এবং রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে অনবরত হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ডোভাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধমক-চমক দিয়ে ভারতকে কাবু করা যাবে না। তিনি রুবিওকে সাফ বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য প্রয়োজনে ভারত ট্রাম্পের শাসনকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে। ভারত আগেও এমন অনেক মার্কিন প্রশাসনকে সামলেছে।”
দাদাগিরির তোয়াক্কা নয়: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোভাল বৈঠকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভারতের অবস্থান দাদাগিরি দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়াই হবে আমেরিকার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতের এই ‘ঘাড় সোজা’ রাখা বা আপোষহীন মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মোদীর কূটনৈতিক জয়: যদিও প্রকাশ্যে মোদী ও ট্রাম্প একে অপরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু নেপথ্যের এই কঠোর দরাদরিই ভারতকে বড়সড় অর্থনৈতিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। ৫০ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১৮ শতাংশ শুল্কে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে ভারত, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিরাট বুস্টার। মোদী সরকারের এই ধৈর্য এবং ডোভালের ঠান্ডা মাথার চাল আবারও প্রমাণ করল যে, বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন আর কোনো ‘জুনিয়র পার্টনার’ নয়।