মারুতিকে টপকে এক নম্বরে টাটা! জানুয়ারিতে কোন গাড়ি সবথেকে বেশি বিক্রি হল? দেখে নিন সেরা ১০-এর তালিকা

২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ্য করা গেল। জানুয়ারি মাসে দেশের গাড়ি বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে মারুতি সুজুকিকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে টাটা মোটর্স-এর জনপ্রিয় এসইউভি টাটা নেক্সন (Tata Nexon)। বছরের প্রথম মাসেই রেকর্ড ৪.৫০ লক্ষ ইউনিট গাড়ি বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্প, যা গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

শীর্ষে টাটা নেক্সন, চাপে মারুতি: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে টাটা নেক্সন (পেট্রোল, ডিজেল এবং ইভি মিলিয়ে) মোট ২৩,৩৬৫ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এই বিক্রির সংখ্যা ছিল ১৫,৩৯৭ ইউনিট। অর্থাৎ এক বছরেই নেক্সনের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে, দীর্ঘকাল ধরে তালিকার শীর্ষে থাকা মারুতি সুজুকির সেডান ডিজায়ার (Dzire) ১৯,৬২৯ ইউনিট বিক্রি করে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে।

তালিকায় চমক টাটা পাঞ্চ ও মারুতি ভিক্টোরিস-এর: তৃতীয় স্থানেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে টাটা মোটর্স। তাদের মাইক্রো এসইউভি টাটা পাঞ্চ (Tata Punch) ১৯,২৫৭ ইউনিট বিক্রি করে নজর কেড়েছে। তালিকার দশম স্থানে রয়েছে মারুতি সুজুকির নতুন লঞ্চ হওয়া এসইউভি মারুতি ভিক্টোরিস (Maruti Victoris), যার বিক্রি হয়েছে ১৫,২৪০ ইউনিট।

জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারতের শীর্ষ ১০টি বিক্রিত গাড়ি: ১. টাটা নেক্সন (Tata Nexon): ২৩,৩৬৫ ইউনিট ২. মারুতি ডিজায়ার (Maruti Dzire): ১৯,৬২৯ ইউনিট ৩. টাটা পাঞ্চ (Tata Punch): ১৯,২৫৭ ইউনিট ৪. হুন্ডাই ক্রেটা (Hyundai Creta): ১৭,৯২১ ইউনিট ৫. মারুতি এরটিগা (Maruti Ertiga): ১৭,৮৯২ ইউনিট ৬. মারুতি সুইফট (Maruti Swift): ১৭,৮০৬ ইউনিট ৭. মারুতি ব্রেজা (Maruti Brezza): ১৭,৪৮৬ ইউনিট ৮. মারুতি ব্যালেনো (Maruti Baleno): ১৬,৭৮২ ইউনিট ৯. মহিন্দ্রা স্করপিও (Mahindra Scorpio): ১৫,৫৪২ ইউনিট ১০. মারুতি ভিক্টোরিস (Maruti Victoris): ১৫,২৪০ ইউনিট

মারুতি সুজুকি সামগ্রিকভাবে বাজারে তাদের বিশাল শেয়ার বজায় রাখলেও, একক মডেল হিসেবে টাটা নেক্সনের এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতীয় ক্রেতারা এখন ছোট গাড়ির বদলে এসইউভি এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের (EV) দিকে বেশি ঝুঁকছেন। মারুতি সুজুকি অবশ্য ৫১,০২০ ইউনিটের রেকর্ড রপ্তানি করে বিদেশের বাজারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।