AI যুদ্ধে আমেরিকা-চিনকে টেক্কা দেবে ভারত! গ্লোবাল সাউথের জন্য খুলে গেল এক নতুন ‘ডিজিটাল পথ’

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) লড়াই এখন এক দ্বিমুখী মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যখন আমেরিকা ও চিন অত্যাধুনিক ‘ফাউন্ডেশনাল মডেল’ তৈরির দৌড়ে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে, তখন ভারতসহ গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কার্নেগি ইন্ডিয়া ও বিদেশ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জিটিএস ইনোভেশন ডায়ালগ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উঠে এসেছে—এআই-এর আসল সাফল্য সুপারকম্পিউটার বা বিপুল ক্ষমতায় নয়, লুকিয়ে রয়েছে ‘সহযোগিতায়’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই ইকোসিস্টেম বিভিন্ন স্তরে বিচ্ছিন্ন। কেনিয়ার একজন উদ্ভাবক মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে যে এআই টুল তৈরি করছেন, ভারতের গ্রামীণ এলাকার একজন উদ্ভাবকও হয়তো একই কাজ করছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে যোগাযোগের অভাবে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উচিত আমেরিকা-চিনের মডেলের অন্ধ অনুকরণ না করে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে জোর দেওয়া। ভারতের শক্তি লুকিয়ে আছে ‘স্মল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ (SLM)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি বাস্তবোচিত সমাধানে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এখন কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘ক্রেডিট’ নির্ভর মডেল থেকে বেরিয়ে এসে ‘আউটপুট ভিত্তিক’ মডেলে রূপান্তর। হাইপারস্কেলারদের থেকে কম্পিউট ক্রেডিট নেওয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বই এখন সময়ের দাবি। ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর লক্ষ্য হলো গ্লোবাল সাউথকে এমন একটি দৌড়ে জেতানো যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। বিভক্ত হয়ে পিছিয়ে না থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই এআই যুগে টিকে থাকার একমাত্র কার্যকর কৌশল।