এক ঢোক জল চাওয়াই কাল হলো! দিল্লির কনট প্লেসে ডেলিভারি বয়দের নৃশংসতায় প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী!

রাতের দিল্লিতে ফের নৃশংসতার চরম রূপ। এক গ্লাস জল চাওয়ার মাশুল দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। খাস দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে দুই খাদ্য সরবরাহকারী (Delivery Boy) কর্মীর হাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ৩৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শিবম গুপ্তার। গত ১৯ জানুয়ারি দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজধানীতে।

ঘটনার সূত্রপাত: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি রাতে পূর্ব দিল্লির লক্ষ্মীনগরের বাসিন্দা শিবম তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে কনট প্লেসের একটি রেস্তোরাঁয় পার্টি করতে গিয়েছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে ই-ব্লকের কাছে এক ডেলিভারি এজেন্টের কাছে পানীয় জল চান শিবম। সামান্য এই জল চাওয়া নিয়েই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন আচমকাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে ওই ডেলিভারি এজেন্ট এবং তার সঙ্গী।

নৃশংস হামলা: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুই হামলাকারী শিবমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় এলোপাথাড়ি লাথি ও ঘুষি। নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে আক্রমণকারীরা তাদের হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বারবার শিবমের মাথায় আঘাত করতে থাকে। রক্তে ভিজে যায় ফুটপাত। গুরুতর আহত অবস্থায় শিবমকে সেখানেই ফেলে রেখে চম্পট দেয় তারা। রাত ১:৩০ নাগাদ পিসিআর কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিবমকে উদ্ধার করে।

হাসপাতালে মরণপণ লড়াই: গুরুতর জখম শিবমকে তড়িঘড়ি লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, মাথায় ক্রমাগত হেলমেটের আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে একাধিক জায়গায় রক্ত জমাট (Hematomas) বেঁধে গিয়েছিল। টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছিলেন তিনি। কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন শিবম। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৯ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার: এই ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত দুই ডেলিভারি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আরও এক ডেলিভারি এক্সিকিউটিভকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও, অপরাধে সরাসরি যুক্ত না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য শিবমের রক্তমাখা পোশাক এবং ঘটনাস্থলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।