তাপমাত্রার খামখেয়ালিপনায় নাজেহাল বঙ্গবাসী! ফেব্রুয়ারিতেই কি গরমের আগাম হানা?

শীতের আমেজ যেন পিছুটান ভুলে এবার বিদায় নিতে চাইছে। ক্যালেন্ডারের পাতা মাঘ মাসেই আটকে থাকলেও, প্রকৃতির রূপ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। ভোরের দিকে সামান্য শিরশিরানি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোয়েটার বা চাদর গায়ে রাখাই দায় হয়ে পড়ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন বলছে, পারদের এই খামখেয়ালি আচরণে বঙ্গবাসী কার্যত নাজেহাল।
পারদ চড়ছে কলকাতায়: মঙ্গলবার পর্যন্ত শীতের কিছুটা দাপট থাকলেও, আজ বুধবার একধাক্কায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগামী সপ্তাহ থেকেই পাকাপাকিভাবে রাজ্য থেকে বিদায় নেবে শীত। সকালের দিকে ভোরের আকাশে হালকা কুয়াশার প্রভাব থাকলেও, সূর্য উঁকি দিলেই পাল্টে যাচ্ছে ছবিটা। চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রা।
ফেব্রুয়ারিতে ৩২°, মার্চে কি ৪০ ছোঁবে পারদ? আন্তর্জাতিক আবহাওয়া গবেষণা সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে কলকাতার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখানেই আশঙ্কার শেষ নয়, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, এপ্রিল থেকে জুনের তীব্র দাবদাহ এবার ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকেই অনুভূত হতে শুরু করবে।
জেলায় জেলায় আবহাওয়ার চিত্র: দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে সকালের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে হালকা কুয়াশার পূর্বাভাস থাকলেও রোদ বাড়লেই তা কেটে যাবে। তবে এখনই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আর কোনও ফেরার সুযোগ নেই বললেই চলে। উত্তরবঙ্গের চিত্রটা অবশ্য কিছুটা আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে আপাতত শীতের আমেজ ও ঘন কুয়াশা বজায় থাকবে। তবে সমতলের তাপমাত্রার প্রভাবে পাহাড়ের আমেজও কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।