আইনজীবীর কালো কোটে সুপ্রিম কোর্টে মমতা! মুখ্যমন্ত্রী কি পারবেন সওয়াল করতে? জেনে নিন আইনের আসল প্যাঁচ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে এক মহাকাব্যিক মোড়! বুধবার দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁর হয়ে লড়তে চলেছেন এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলাটি। কিন্তু একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী কি আইনত ‘উকিল’ হিসেবে সওয়াল করতে পারেন? এই প্রশ্নই এখন আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন এলএলবি (LLB) ডিগ্রিধারী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে আইনজীবীর কালো কোটে সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এলএলবি ডিগ্রি থাকলেই ভারতের কোনো আদালতে সওয়াল করা যায় না। ১৯৬১ সালের ‘অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট’ এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে আদালতে সওয়াল করতে হলে কোনো রাজ্য বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত হতে হয় এবং তাঁর কাছে প্র্যাকটিস সার্টিফিকেট (COP) থাকা বাধ্যতামূলক। অধিকন্তু, বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পূর্ণকালীন সরকারি পদে (যেমন মুখ্যমন্ত্রী) থাকাকালীন ওকালতি পেশা চালিয়ে যেতে পারেন না।
তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করতে পারবেন না? এখানেই রয়েছে আইনের বিশেষ ধারা। ‘অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট, ১৯৬১’-এর ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আদালত চাইলে কোনো ব্যক্তিকে (যিনি নথিভুক্ত আইনজীবী নন) বিশেষ ক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দিতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে একটি অন্তর্বর্তী আবেদন দাখিল করে জানিয়েছেন যে, তিনি এই মামলার মূল আবেদনকারী এবং রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে ভালো অবগত। ফলে বিচারক চাইলে তাঁকে ‘ইন-পারসন’ বা আবেদনকারী হিসেবে বক্তব্য রাখার অনুমতি দিতে পারেন, তবে পেশাদার ‘অ্যাডভোকেট’ হিসেবে নয়।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের শিষ্টাচার ও ডেকোরাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তৃণমূলের দাবি, এটি ‘জনগণের আইনজীবী বনাম শয়তানের আইনজীবী’র লড়াই। এখন দেখার, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ঐতিহাসিক এই সওয়াল করার অনুমতি দেন কি না।