বঙ্গের বিজেপি সাংসদদের কঠিন ‘হোমওয়ার্ক’ দিলেন নিতিন নবীন! ভোটের আগে কোন পরীক্ষায় বসতে হবে নেতাদের?

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে ঘর গোছাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। হাতে সময় কম, আর তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বঙ্গের বিজেপি সাংসদদের কার্যত কড়া ‘হোমওয়ার্ক’ ধরিয়ে দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী এক মাস হবে ‘পরীক্ষার সময়’।

এদিন বিকেল সাড়ে ৬টা নাগাদ শুরু হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা। সূত্রের খবর, নিতিন নবীন প্রত্যেকের থেকে তাঁদের সংসদীয় এলাকার বিধানসভা ভিত্তিক রিপোর্ট কার্ড তলব করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে কোথায় লিড ছিল আর কোথায় ঘাটতি—সেই ব্যবধান মেটাতে সাংসদদের তৃণমূল স্তরে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, “এটি ছিল আমাদের সংগঠনের এক বিশেষ মুহূর্ত। সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের বহু উপদেশ দিয়েছেন এবং শিখিয়েছেন কীভাবে নিচুতলার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ মজবুত করতে হয়।”

নিতিন নবীন সাংসদদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এখন থেকেই বিধায়কদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। যেখানে বিজেপি বিধায়ক নেই, সেখানে মন্ডল ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংগঠনকে মজবুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস কোনো বড় মিছিল বা জনসভা নয়, বরং প্রতিটি বুথ স্তরে গিয়ে মানুষের অভিযোগ শোনার ও সংগঠনের ফাঁকফোকর মেরামত করার ‘হোমওয়ার্ক’ দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই রণকৌশলই বঙ্গ বিজেপির ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে।