সাবধান অপরাধীরা! স্টেশনে পা দিলেই ধরবে রোবট-পুলিশ ‘অর্জুন’, মুখ দেখেই হবে কেল্লাফতে

রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো দৃশ্য বাস্তবে ধরা দিল। বিশাখাপত্তনম রেলওয়ে স্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছে অত্যাধুনিক রেল রোবোকপ “এএসসি অর্জুন” (ASC ARJUN)। আর কাজ শুরু করার প্রথম সপ্তাহেই বড়সড় সাফল্য পেল এই এআই-চালিত রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-এর মাধ্যমে কুখ্যাত অপরাধীদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিল এই ‘লোহার রক্ষী’।
কিভাবে কাজ করে এই রোবট? সোমবার রাতে যখন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড়, ঠিক তখনই অর্জুন তার এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ভিড়ের মধ্যে থাকা মুখগুলো স্ক্যান করতে শুরু করে। রেলের ডেটাবেসে থাকা পুরনো অপরাধীদের ছবির সঙ্গে একজনের মুখ মিলে যেতেই স্বয়ংক্রীয়ভাবে আরপিএফ (RPF) কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠিয়ে দেয় রোবটটি। সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা পান সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা।
অপারেশন এবং গ্রেফতার: কন্ট্রোল রুম থেকে হেড কনস্টেবল বি.এস. নারায়ণ লাইভ ফিড পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে রোবটটি সঠিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। তৎক্ষণাৎ ওয়াল্টেয়ার ডিভিশনের ক্রাইম প্রিভেনশন ডিটেনশন স্কোয়াড (CPDS)-এর সাব-ইন্সপেক্টর ভি. কীর্তি রেড্ডিকে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত অভিযানে নেমে পুলিশ হাদাপা শিবা (৩৯) এবং তার সহযোগী জি. ভাঙ্গারুকে গ্রেফতার করে। তল্লাশিতে দেখা যায়, তাদের কাছে কোনও বৈধ টিকিট ছিল না।
রেকর্ড যাচাই করে জানা গেছে, ধৃতরা দীর্ঘদিনের দাগী অপরাধী। ওড়িশার রায়গড়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা রয়েছে। মূলত তারা স্টেশনে কোনও বড়সড় অপরাধ করার উদ্দেশ্যেই ঢুকেছিল, কিন্তু রোবট অর্জুনের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেনি।
রেলওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী পরমেশ্বর ফুঙ্কওয়াল এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, “প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধনে যাত্রী নিরাপত্তা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশাখাপত্তনমের এই সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় স্টেশনেও এই ধরণের রোবোকপ মোতায়েন করার কথা ভাবা হচ্ছে।” ভারতীয় রেলের এই পদক্ষেপ যে অপরাধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।