শেষ সুযোগ ৪ ফেব্রুয়ারি! ভোটার কার্ড বাঁচাতে কী কী নথি বাধ্যতামূলক? এক ক্লিকে জেনে নিন বিস্তারিত

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকা প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের কাছে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে শুনানির নোটিস। আগামী রবিবারের মধ্যে বাকি থাকা ভোটারদের কাছেও এই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর আর কেউ নোটিস পাওয়া থেকে বাকি থাকবেন না বলেই দাবি কমিশন সূত্রের। আগামী সপ্তাহের শেষ থেকেই শুরু হতে চলেছে বড় মাপের শুনানি প্রক্রিয়া।
আদালতের কড়া নির্দেশ মেনে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকা ভোটারদের তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে টাঙানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তালিকা প্রকাশের পর নথি জমা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০ দিনের সময়সীমা রাখা বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে পারবেন। আইনত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনও বাধা থাকবে না বলেই মনে করছে সিইও দফতর।
কোন কোন এলাকায় কাজ দ্রুত চলছে?
কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুনানির কাজ অনেক জায়গায় শেষের মুখে। বিশেষত:
উত্তরবঙ্গ: আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা ও মাদারিহাট।
দক্ষিণ কলকাতা: ভবানীপুর, বালিগঞ্জ ও রাসবিহারী।
এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে শুনানির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ এবং বর্তমানে জমা পড়া নথিপত্র যাচাইয়ের (Verification) কাজ চলছে।
পিছিয়ে থাকা জেলা ও কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি
শুনানির নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজে এখনও বেশ কিছু জেলা গতি আনতে পারেনি। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কাজের শ্লথ গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন। তবে সবথেকে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ভোটারদের জমা দেওয়া নথিপত্র নিয়ে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজিরা দিলেও নির্ধারিত নথির বদলে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই বা রান্নার গ্যাসের কানেকশন সংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছেন। নিয়ম বহির্ভূত এই নথিগুলি কীভাবে সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) এবং এইআরও-রা (AERO) গ্রহণ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— এই অনিয়ম প্রমাণিত হলে যেমন ওই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে, ঠিক তেমনই সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-দের বিরুদ্ধেও নেওয়া হতে পারে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।