আরব সাগরে ধ্বংসলীলার পর এবার বঙ্গোপসাগরে আইএনএস বিক্রান্ত! কেন কাঁপছে প্রতিপক্ষ?

অপারেশন সিন্দুরের সেই অকুতোভয় নায়ক, ভারতীয় নৌবাহিনীর গর্ব আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant) আবারও খবরের শিরোনামে। উত্তর আরব সাগরে মোতায়েন থাকাকালীন যে যুদ্ধজাহাজটি পাকিস্তান নৌবাহিনীকে কার্যত কোণঠাসা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য করেছিল, সেই একই ‘রণতরী তারকা’ এবার বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশির দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ভারতের প্রথম দেশীয় বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তের এই মুভমেন্ট নিয়ে ইতিমধেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
কেন বঙ্গোপসাগরে এই রণসজ্জা? মূলত আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা বা ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ (IFR)-এ অংশগ্রহণের জন্যই বিক্রান্তের এই যাত্রা। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশাখাপত্তনমে শুরু হতে চলেছে এই মেগা ইভেন্ট। যেখানে ভারতের সামরিক শক্তি এবং সামুদ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শিত হবে বিশ্বের সামনে। বন্ধু দেশগুলি ভারতের এই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দানবীয় রণতরীটি কাছ থেকে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহী।
আইএনএস বিক্রান্তের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা: প্রযুক্তিগত দিক থেকে আইএনএস বিক্রান্ত একটি ভাসমান দুর্গের সমান। ২৬২.৫ মিটার লম্বা এবং ৬১.৬ মিটার চওড়া এই রণতরীটির ওজন প্রায় ৪৫,০০০ টন। সর্বোচ্চ ২৮ নট গতিতে ছুটতে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজে একসঙ্গে ১,৬০০ জন নাবিক এবং আধিকারিক থাকতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি প্রায় ৩০টি যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার বহন করতে পারে। মিগ-২৯কে (MiG-29K), কামোভ-৩১, এবং অত্যাধুনিক এমএইচ-৬০আর (MH-60R) হেলিকপ্টার দিয়ে সজ্জিত এই রণতরী যে কোনো শত্রুর চোখ উপড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে।
৬০টি দেশের সামনে ভারতের দাপট: নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্লিট রিভিউতে রাষ্ট্রপতি স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন এবং আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যবেক্ষণ করবেন। এবারের আয়োজনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ১৩৫টিরও বেশি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৬০টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা নৌমহড়া ‘মিলান-২৬’-এও বিক্রান্তের উপস্থিতি ভারতকে একটি ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।