সংসদে রাহুল-বনাম বিজেপি! জেনারেল নরভনের অপ্রকাশিত বই নিয়ে হুলুস্থুল, কেন প্রয়োগ হলো ‘রুল ৩৪৯’?

লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালীন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নরভনের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ (Four Stars of Destiny)-র প্রসঙ্গ তুলে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু তিনি ডোকলাম ও গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে বইটির উদ্ধৃতি পড়া শুরু করতেই ট্রেজারি বেঞ্চ প্রবল আপত্তি জানায়। এরপরই স্পিকার ওম বিড়লা ‘রুল ৩৪৯’ (Rule 349) প্রয়োগ করে রাহুলকে কথা বলা থেকে বিরত করেন, যা নিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সংসদ।
কী এই নিয়ম ৩৪৯? সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য হাউসের কার্যসূচির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কোনো বই, সংবাদপত্র বা চিঠি পাঠ করতে পারবেন না। স্পিকার জানান, কোনো অপ্রকাশিত বা অপ্রমাণিত নথি যা হাউসের পটে রাখা হয়নি, তা সংসদীয় বিতর্কে ব্যবহার করা যায় না। যদিও রাহুলের দাবি ছিল, তিনি একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন যা ইতিমধ্যেই জনসমক্ষে (Public Domain) রয়েছে।
রাজনীতির ময়দানে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ: সংসদ চত্বরে রাহুল গান্ধী তোপ দেগে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাজনাথ সিং ডোকলামে চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিলেন, নরভনের বইয়ে সেই সত্যই লেখা আছে। সরকার ভয় পাচ্ছে বলেই আমাকে থামিয়ে দেওয়া হলো।” অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, রাহুল গান্ধী সংসদকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’তে পরিণত করতে চাইছেন। সরকারি সূত্রের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার দোহাই দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বিপজ্জনক। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদব রাহুলকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সত্য আড়াল করতেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।