২১ দিনেই কেল্লাফতে! ট্রাম্পের ‘স্পেশাল কমান্ডো’ সার্জিও গোর কীভাবে ম্যাজিক দেখালেন দিল্লিতে?

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা ‘ট্যারিফ ওয়ার’ বা শুল্ক যুদ্ধের অবসান হলো মাত্র ২১ দিনের ঝোড়ো তৎপরতায়। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করার নেপথ্যে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তিনি হলেন ভারতে নিযুক্ত কনিষ্ঠতম মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সার্জিও গোর (Sergio Gor)। দিল্লিতে পা রাখার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি যেভাবে জট পাকানো বাণিজ্যিক বিরোধের সমাধান করেছেন, তাকে এক কথায় ‘কূটনৈতিক ম্যাজিক’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কে এই সার্জিও গোর? ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গোরের জন্ম অধুনো উজবেকিস্তানে (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। ১৯৯৯ সালে তাঁর পরিবার আমেরিকায় পাড়ি দেয়। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) অভিযানের অন্যতম প্রধান মুখ সার্জিওকে গত জানুয়ারি মাসে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠান ট্রাম্প। তাঁকে ট্রাম্পের ‘আস্থাভাজন কৌশলবিদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন।
২১ দিনের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াই: দিল্লিতে পা রেখেই সার্জিও গোর স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, মোদী ও ট্রাম্পের বন্ধুত্ব এতটাই গভীর যে কোনো মতভেদই স্থায়ী হতে পারে না। গত ২১ দিনে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ম্যারাথন বৈঠক, মন্ত্রীদের আমেরিকা সফর এবং সার্জিও গোরের নেপথ্য তৎপরতা— সব মিলিয়ে এক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। যেখানে এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা চুক্তিতে দেরি হওয়ার জন্য ভারতকে দায়ী করছিলেন, সেখানে সার্জিও গোর এসেই মোদী-ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জট ছাড়াতে শুরু করেন।
অবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ঘোষণা করলেন যে ভারতের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে (যা আগে শাস্তিমূলকভাবে ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল), তখন সার্জিও গোরের ২১ দিনের পরিশ্রম সার্থকতা পায়। কূটনৈতিক মহলের মতে, সার্জিও গোর কেবল একজন রাষ্ট্রদূত নন, বরং ট্রাম্পের এমন এক ‘বিশেষ দূত’ হিসেবে কাজ করেছেন যাঁর ওপর হোয়াইট হাউসের পূর্ণ আস্থা ছিল।