রোহিত শেঠির বাড়িতে হামলা! উদ্ধার সেই রহস্যময় স্কুটার! ৩০ হাজারে কেনা যানেই কি লুকিয়ে আসল মাস্টারমাইন্ড?

বলিউড পরিচালক রোহিত শেঠির জুহুর বাসভবনে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশ এবার উদ্ধার করল হামলায় ব্যবহৃত সেই হোন্ডা ডিও স্কুটারটি। এই সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে হামলার নেপথ্যে থাকা সুগভীর ষড়যন্ত্রের জাল। প্রশ্ন উঠছে, এই হামলার মাস্টারমাইন্ড আসলে কে? কোনো গ্যাংস্টার নাকি পুরনো কোনো শত্রুতা?
পুণে কানেকশন ও রহস্যময় চুক্তি: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। হামলায় ব্যবহৃত স্কুটারটি পুণের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র ৩০,০০০ টাকায় কেনা হয়েছিল। লেনদেনটি হয়েছে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে— কোনো আরসি (RC) বা আইনি নথি ছাড়াই একটি সাধারণ সাদা কাগজে সই করে স্কুটারটি হাতবদল হয়। আদিত্য গায়কোয়াড় নামের এক অভিযুক্ত এই স্কুটারটি কিনেছিলেন।
অপারেশনের ব্লুপ্রিন্ট: তদন্ত অনুযায়ী, আদিত্য গায়কোয়াড় এবং সমর্থ পোমাজি নামে দুই যুবক পুণে থেকে স্কুটারটি চালিয়ে মুম্বাই নিয়ে আসেন। জুহু এলাকায় আগে থেকে নির্ধারিত একটি নিরাপদ স্থানে সেটি পার্ক করা হয়। পুরো পরিকল্পনাটি সাজিয়েছিলেন শুভম লোনকার নামে এক ব্যক্তি, যাকে এই ষড়যন্ত্রের প্রধান যোগসূত্র বলে মনে করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। মজার বিষয় হলো, স্কুটার সরবরাহকারীরা নিজেরাও জানতেন না যে শুটার কে! শুভম লোনকারই ফোনে শুটারকে স্কুটারের অবস্থান এবং রোহিত শেঠির টাওয়ারের ঠিকানা জানান।
বিষ্ণোই গ্যাং কি এর পেছনে? হামলার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জল্পনায় এলেও ধৃত পাঁচ অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে তা অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের মতে, অপরাধ করার এই ধরনটি (একাধিক ছোট দল ব্যবহার করা যাতে কেউ পুরোটা না জানতে পারে) পেশাদার অপরাধী চক্রেরই কাজ। রবিবার হওয়া এই হামলায় মোট ৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। বর্তমানে ফরেনসিক এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রোহিত শেঠির বাড়ির চারপাশ এখন নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে ঢাকা।