ট্রাম্প-মোদী ডিল: ভারত কি তবে রাশিয়ার হাত ছাড়ছে? দিল্লির ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা!

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি কেবল অর্থনীতির নিরিখে নয়, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫২ সপ্তাহের টানাপড়েন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করার ঘোষণা দিলেন, তখনই প্রশ্ন উঠল— তবে কি রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে চিড় ধরতে চলেছে? এই চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। যদিও ভারতের সরকারি বিবৃতিতে এই ‘তেল আমদানির স্থগিতাদেশ’ নিয়ে সুকৌশলী নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত সমন্বয়’। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত রাশিয়ার তেলের প্রধান গ্রাহক হয়ে উঠলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে এই আমদানির পরিমাণ তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আমেরিকার সঙ্গে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য এবং জ্বালানি চুক্তির মাধ্যমে ভারত নিজের শক্তির উৎসগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। ভারত এখন রাশিয়াকে পুরোপুরি ত্যাগ না করে বিকল্প বাজার হিসেবে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের মূল স্তম্ভ কেবল জ্বালানি নয়, বরং প্রতিরক্ষা। এখনও ভারতের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে মস্কো সবচেয়ে বড় অংশীদার। গত ডিসেম্বরে ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লি সফরের সময়ও দুই দেশ ‘বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Special and Privileged Strategic Partnership) জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে, তেলের ব্যবসায় কিছুটা টান পড়লেও ভারতের এই ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ নীতি আসলে রাশিয়া ও আমেরিকা— দুই পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক চাল বলে মনে করা হচ্ছে।