সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকছেন? অজান্তেই আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে ‘ডিজিটাল বার্নআউট’!

বর্তমান যুগের তরুণ প্রজন্মের কাছে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ছাড়া জীবন ভাবাই অসম্ভব। কিন্তু এই নিরন্তর ভার্চুয়াল সংযোগই কি আপনার শরীর ও মনের বারোটা বাজাচ্ছে? চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং তথ্যের চাপে যুব সমাজ এখন এক মারাত্মক ব্যাধির শিকার, যার নাম— ‘ডিজিটাল বার্নআউট’ (Digital Burnout)। এটি কেবল সাধারণ ক্লান্তি নয়, বরং এক গভীর মানসিক ও স্নায়বিক অবসাদ।
কেন হয় এই ডিজিটাল বার্নআউট? সব সময় অনলাইনে থাকা এবং নোটিফিকেশনের বন্যায় আমাদের মস্তিষ্ক এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম পায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশেরও বেশি তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক অতিরিক্ত তথ্য প্রসেস করতে গিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বোধ করেন। সারাক্ষণ ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট আর খবরের ভিড়ে মস্তিষ্ক ‘কগনিটিভ ওভারলোড’-এর শিকার হয়। ফলে স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং জীবনের প্রতি অনীহা তৈরি হয়।
লক্ষণগুলি চিনে নিন: যদি দেখেন আপনার শরীর ক্লান্ত নয়, কিন্তু মন ভীষণ ভারাক্রান্ত, কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না এবং স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকলে অস্থির লাগছে— তবে বুঝবেন আপনি ডিজিটাল বার্নআউটের শিকার। এটি আপনার ঘুমের চক্র নষ্ট করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার জন্ম দেয়।
মুক্তির উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ অর্থাৎ ফোন থেকে দূরে থাকা জরুরি। প্রয়োজনে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ভার্চুয়াল জগতের বাইরে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোই এই মানসিক নিঃশেষ হওয়া থেকে বাঁচার একমাত্র পথ।