নাজিরাবাদ জতুগৃহকাণ্ডে অবশেষে পুলিশের জালে ‘ওয়াও মোমো’-র ২ কর্তা, আজই পেশ আদালতে

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চারদিন পর এবার বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ডেকরেটর গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসের পর এবার গ্রেফতার করা হলো জনপ্রিয় খাদ্য বিপণনী সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’-র দুই পদস্থ কর্তাকে। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ওই সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন সিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী-কে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

তবে এই জোড়া গ্রেফতারি নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। বিরোধীদের প্রশ্ন, ঘটনার চারদিন পর কেন এই পদক্ষেপ? ধৃতরা তো নরেন্দ্রপুর এলাকাতেই ছিলেন, তবে কি রাজনৈতিক চাপের মুখে এই গ্রেফতারি? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “আসল অপরাধীদের আড়াল করতেই এই দেরি।” উল্লেখ্য, আজই কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে গড়িয়া থেকে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মৃতদেহগুলি ফলের প্যাকেটে পাচার করা হচ্ছে এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৩৫-৪০ হতে পারে।

এদিকে, ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে দেহাংশ উদ্ধারের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন। শনাক্তকরণের জন্য ২১টি নমুনা ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। নাজিরাবাদ এলাকায় আজ পর্যন্ত ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। জতুগৃহকাণ্ডের নেপথ্যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় চূড়ান্ত গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে পুলিশ।