নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড: দেহাংশ না কি নরকঙ্কাল? উদ্ধার হওয়া অবশিষ্টাংশ নিয়ে ধন্দে খোদ ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা!

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের সেই অভিশপ্ত রাতের পর আজ চারদিন। স্বজনহারা পরিবারগুলোর কাছে মৃতদেহ নয়, এখন শেষ সম্বল বলতে কেবল কিছু হাড়, দাঁত আর দেহাংশ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২১টি দেহাংশ কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে সেই ধ্বংসাবশেষের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরাও অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে পারছেন না সেগুলি মানুষের দেহাংশ না কি অন্য কোনও প্রাণীর।
উদ্ধার হওয়া অবশিষ্টাংশের মধ্যে ১৬টি নমুনা ইতিমধ্যে ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেহাংশগুলি এতটাই ভস্মীভূত যে সেগুলি পুরুষ না কি মহিলার, এমনকি তাঁদের বয়স কত ছিল— তাও বোঝার উপায় নেই। ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হাড়, টিস্যু এবং দাঁতের নমুনা থেকে তাঁদের রক্তের গ্রুপ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আগুনের নেপথ্যে কোনও বিশেষ রাসায়নিক বা দাহ্য তেল ছিল কি না, তা জানতেও চলছে পরীক্ষা।
বৃহস্পতিবার নতুন করে যে ৪টি দেহাংশের খোঁজ মিলেছিল, আজ শুক্রবার সেগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নাজিরাবাদ এলাকায় আজ পর্যন্ত ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ভস্মীভূত আবর্জনার স্তূপের নিচে আর কারও দেহাংশ চাপা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তল্লাশি জারি রয়েছে। নিখোঁজদের পরিজনদের এখন একটাই প্রার্থনা— ফরেন্সিক রিপোর্টে যেন অন্তত তাঁদের প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু শনাক্ত করা যায়।