থালাপথি বিজয়ের শেষ ছবি ‘জন নায়কন’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সেন্সর বোর্ড! জারি হলো ক্যাভিয়েট

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপথি বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘জন নায়কন’ (Jana Nayagan) ঘিরে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের পর এবার লড়াই পৌঁছাল সুপ্রিম কোর্টে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) বা সেন্সর বোর্ড শীর্ষ আদালতে একটি ক্যাভিয়েট (Caveat) দাখিল করেছে, যাতে কোনোভাবেই তাদের বক্তব্য না শুনে ছবির মুক্তি বা সার্টিফিকেশন নিয়ে একতরফা নির্দেশ না দেওয়া হয়।
কেন এই ‘ক্যাভিয়েট’?
মাদ্রাজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ছবি নির্মাতারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন— এই আশঙ্কায় আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামল সেন্সর বোর্ড। তাদের আর্জি, আবেদনকারীর কথা শুনেই যেন কোনো চূড়ান্ত রায় না দেওয়া হয়, বরং বোর্ডের যুক্তিও শোনা হয়।
কী নিয়ে এত বিবাদ?
-
মুক্তির তারিখ মিস: ছবিটি গত ৯ জানুয়ারি পঙ্গলের শুভ মুহূর্তে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের আপত্তিতে তা থমকে যায়।
-
কাঁচি বনাম সৃজনশীলতা: শুরুতে কিছু দৃশ্য বাদ দিয়ে ‘UA’ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও, কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ফাইলটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হয়।
-
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ: নির্মাতারা অভিযোগ করেন, সেন্সর বোর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে। গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট ‘UA’ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ডিভিশন বেঞ্চ তাতে স্থগিতাদেশ দেয়।
[Image: Thalapathy Vijay’s poster from ‘Jana Nayagan’ / Supreme Court building scales of justice]
বিজয়ের শেষ ছবি: আবেগের তুঙ্গে ভক্তরা
ভক্তদের কাছে এই ছবিটির গুরুত্ব অপরিসীম কারণ: ১. এটি বিজয়ের চলচ্চিত্র জীবনের শেষ ছবি বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর তিনি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন। ২. ছবিতে পূজা হেগড়ে, ববি দেওল এবং প্রকাশ রাজের মতো তারকাদের উপস্থিতি উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেন্সর বোর্ডের যুক্তি
বোর্ডের দাবি, সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অন্যদিকে, কেভিএন প্রোডাকশনস (KVN Productions) জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যেই বোর্ডের দেওয়া সমস্ত ‘কাট’ ও সংলাপ পরিবর্তনের পরামর্শ মেনে নিয়েছে, তবুও সার্টিফিকেট আটকে রাখা অন্যায়।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৫ জানুয়ারি এই মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে মাদ্রাজ হাইকোর্টকেই দ্রুত ফয়সালার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন দেখার, সেন্সর বোর্ডের এই পাল্টা চালে বিজয়ের শেষ ইনিংসের মুক্তি আর কতদিন পিছিয়ে যায়।