রেলের দুনিয়ায় বিপ্লব! দেশে প্রথমবার ছুটবে এলএনজি ট্রেন, সাশ্রয় হবে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা

ভারতীয় রেলের মুকুটে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহনের লক্ষে দেশ পেতে চলেছে প্রথম LNG (Liquefied Natural Gas) চালিত ডেমু (DEMU) ট্রেন। পশ্চিম রেলওয়ের আমেদাবাদ ডিভিশন এই অসাধ্য সাধন করেছে। শুক্রবার আমেদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বেদ প্রকাশ সবরমতী ডেমু শেড পরিদর্শন করে এই ট্রেনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।

কী এই নতুন প্রযুক্তি? (Dual Fuel System):

প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে ডুয়াল ফুয়েল সিস্টেম

  • ডিজেল + এলএনজি: এখানে চালক প্রয়োজনে ডিজেল থেকে এলএনজি-তে ইঞ্জিন সুইচ করতে পারবেন।

  • সাশ্রয়: দেখা গেছে, এই ইঞ্জিনে প্রায় ৪০ শতাংশ ডিজেলে বদলে এলএনজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে একটি ৮ কোচের ডেমু রেকে বছরে প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে।

[Image: India’s first LNG-powered DEMU train at Sabarmati shed / DRM Ved Prakash inspecting the power car]

কেন এটি ‘গেম চেঞ্জার’? ৫টি প্রধান বৈশিষ্ট্য:

১. দূষণ মুক্তি: এলএনজি ব্যবহারের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং ধূলিকণার নির্গমন এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। ২. বিশাল জ্বালানি ক্ষমতা: প্রতিটি পাওয়ার কারে ২২০০ লিটার ক্ষমতার এলএনজি ট্যাঙ্ক লাগানো হয়েছে, যা একবার ভর্তি করলে ট্রেনটি ২২২ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসেই চলতে পারবে। ৩. সফল ট্রায়াল: ইতিমধ্যেই ২০০০ কিলোমিটারের বেশি ফিল্ড ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই। ৪. অপরিবর্তিত ক্ষমতা: ডিজেলে চললে ইঞ্জিন যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করে, এলএনজি-তেও সমান ক্ষমতা বজায় থাকবে। ৫. গ্রিন রেল মিশন: ভারতীয় রেলের ২০৩০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ কার্বন নির্গমনকারী হওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

পরবর্তী পরিকল্পনা

ডিআরএম বেদ প্রকাশ জানিয়েছেন, আরডিএসও (RDSO) থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পর আরও ৮টি ডেমু ট্রেনকে এই ডুয়াল ফুয়েল প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হবে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা চালু হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।