আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি, জনারণ্য আলওয়ারে! সম্পন্ন হলো ১১১ কুণ্ডের ঐতিহাসিক শ্রী রাম মহাযজ্ঞ

রাজস্থানের আলওয়ার জেলার নারায়ণপুর আজ এক অনন্য আধ্যাত্মিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। পুরুষোত্তমদাস মহারাজ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১১১ কুণ্ডাত্মক শ্রী রাম মহাযজ্ঞের শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং মহাবলি বা পূর্ণাহুতির মাধ্যমে নয় দিনের এই বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাপ্তি দিবসের আকর্ষণ: আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি
মহাযজ্ঞের শেষ দিনে ভক্তদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। পূর্ণাহুতির সময় যখন যজ্ঞের শিখা আকাশ ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই একটি ড্রোন যজ্ঞস্থল ও উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তদের ওপর আকাশ থেকে অনবরত পুষ্পবৃষ্টি করতে থাকে। এই দৃশ্য গোটা পরিবেশকে এক স্বর্গীয় রূপ দান করে।
[Image: Drone showering petals on a large gathering of devotees at the 111 Kunda Shri Ram Mahayagya]
মহাযজ্ঞের এক ঝলক:
-
সূচনা: গত ২১শে জানুয়ারী জনার্দন দেবাচার্যের নেতৃত্বে ১,৫৫১ জন মহিলার বর্ণাঢ্য কলশ যাত্রার মাধ্যমে এই মহাযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল।
-
আধ্যাত্মিক সঙ্গম: দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অভিজ্ঞ আচার্যরা শাস্ত্রীয় রীতি মেনে যজ্ঞ পরিচালনা করেন। প্রতিদিন কীর্তন, ভজন ও প্রবচনের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক শান্তিতে নিমগ্ন ছিলেন।
-
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি: পূর্ণাহুতির দিন উপস্থিত ছিলেন বানসুরের বিধায়ক দেবী সিং শেখাওয়াত এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ডঃ রোহিতাশ্ব শর্মা। বিধায়ক এই মহাযজ্ঞকে সমাজে ঐক্য এবং মূল্যবোধ তৈরির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এসডিএম দীনেশ শর্মার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যাঁরা ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার টানে এই নয় দিন মহাযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মতে নারায়ণপুরের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।