নাজিরাবাদ জতুগৃহকাণ্ডে রাজপথে শুভেন্দু! নরেন্দ্রপুর থানা অভিযানে জনজোয়ার, হাইকোর্টের কড়া নজর

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচার চেয়ে এবার গর্জে উঠলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মেলার পরেই আজ গড়িয়া থেকে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত বিজেপির এক বিশাল মিছিল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারই নাজিরাবাদ পৌঁছে এই ‘থানা চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ মেনে সর্বাধিক ২ হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করছে গেরুয়া শিবির।
মিছিলটি গড়িয়া শীতলা মন্দির থেকে শুরু হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার ২০০ মিটার আগে পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। সেখান থেকে ৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল থানায় গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো অগ্নিকাণ্ডে প্রশাসনের গাফিলতির প্রতিবাদ এবং নিখোঁজদের দ্রুত শনাক্তকরণ। নাজিরাবাদকাণ্ডে ইতিমধ্য়েই মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ একাদশ শ্রেণীর ছাত্র দেবাদিত্যের মতো অনেকের পরিবারের একমাত্র ভরসা এখন ডিএনএ (DNA) টেস্টের রিপোর্ট। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও দেহাংশ উদ্ধারের কাজ চলায় শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, তদন্তে নেমে পুলিশ আজ ‘ওয়াও মোমো’র ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী ও ডেপুটি ম্যানেজার মনোরঞ্জন শীটকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাহীন এই গুদামটি কীভাবে চলল, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকে আঙুল উঠতেই দায় ঝেড়ে ফেলেছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মন্ত্রীর দাবি, “ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব আছে, সবকিছু সরকারের ওপর চাপানো ঠিক নয়।” মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, শাসক দলের নেতাদের মদতেই এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ চলছিল। রাজপথে এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে নিখোঁজদের পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে নাজিরাবাদের আকাশ।