ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র! ভোপালে ৯০০০ জাল অভিযোগ, তদন্তে নামতেই সব হাওয়া

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন এক ভয়ংকর জালিয়াতি সামনে এসেছে। তালিকায় থাকা সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য জমা পড়েছে হাজার হাজার ভুয়া অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে ৯ হাজার মোবাইল নম্বর ও নাম ব্যবহার করে এই অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তদন্তে নেমে দেখা গেছে তাদের কেউই আদতে এই অভিযোগ করেননি!

লীলাধর ও বিজেপি নেতার নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি

ভোপালের দক্ষিণ-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জালিয়াতির ধরন দেখে হতবাক প্রশাসনিক কর্তারা।

  • কেস ১: লীলাধর নামে এক ব্যক্তির নাম ও নম্বর ব্যবহার করে ৭ জন ভোটারের নাম কাটার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু লীলাধরকে যখন ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা হয়, তিনি স্পষ্ট জানান— তিনি এমন কোনও আবেদনই করেননি!

  • কেস ২: বিকাশ সিং নামে এক ব্যক্তির নামে অভিযোগ জমা পড়লেও সেখানে মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল এক বিজেপি নেতার। ওই নেতাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।

[Image: Collector Kaushlendra Vikram Singh addressing the media regarding voter list anomalies]

৯০০০ জাল অভিযোগ: নেপথ্যে কি কোনও মাস্টারমাইন্ড?

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৯০৩৭টি আপত্তি জমা পড়েছে (ফর্ম নম্বর ৭-এর মাধ্যমে)। কিন্তু ভেরিফিকেশন শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, অভিযোগকারীদের কোনও অস্তিত্ব নেই অথবা তাঁদের পরিচয় চুরি করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটি একটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র।

পরিসংখ্যান যা বলছে:

  • মোট ভোটার ডিজিটাল ডেটা: ১৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৩ জন।

  • তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম: ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩১৭ জন।

  • নো-ম্যাপিং ক্যাটেগরি: ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৯২৫ জন (যাদের তথ্য এখনও যাচাই হচ্ছে)।

কড়া হুঁশিয়ারি জেলা শাসকের

ভোপালের জেলা কালেক্টর তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক কৌশলেন্দ্র বিক্রম সিং ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “কোনও ভুয়ো অভিযোগের ভিত্তিতে নাম কাটা হবে না। বিএলও (BLO) প্রতিটি ভোটারের বাড়ি গিয়ে স্বশরীরে তদন্ত করবেন। অভিযোগকারী বা ভোটারকে না পাওয়া গেলে আইনি নোটিশ দেওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া একটি নামও তালিকা থেকে মোছা হবে না।”

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— এই ভুয়া অভিযোগের পাহাড় তৈরি করল কে?