জয়পুর হাসপাতালের বিশ্বরেকর্ড! এআইএম (AIM) প্রযুক্তিতে শ্রবণহীন শিশুর সফল অস্ত্রোপচার, ইতিহাসে প্রথম

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইতিহাস গড়ল রাজস্থান স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় (RUHS)। জয়পুরের এই হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বিভাগ বিশ্বের প্রথম হাসপাতাল হিসেবে ANSD (Auditory Neuropathy Spectrum Disorder) আক্রান্ত এক শিশুর ওপর অত্যাধুনিক AIM (Active Insertion Monitoring) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন করেছে।

কী এই AIM প্রযুক্তি? কেন এটি বৈপ্লবিক?

সাধারণত কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারিতে ইলেকট্রোড ঢোকানোর সময় কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কাঠামোর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। কিন্তু AIM প্রযুক্তিতে:

  • ধীর ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি: সাধারণ অস্ত্রোপচারে যেখানে ৩০-৬০ সেকেন্ড লাগে, সেখানে এই পদ্ধতিতে প্রায় ৪১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে অত্যন্ত ধীর ও মৃদু গতিতে ইলেকট্রোড ঢোকানো হয়।

  • লাইভ মনিটরিং: অস্ত্রোপচারের সময় শ্রবণ স্নায়ুর প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করা যায়, ফলে ভেতরে আঘাত লাগার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না।

  • বিস্ময়কর ফলাফল: এই শিশুর অস্ত্রোপচারের সময় স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া সাধারণের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি শক্তিশালী ছিল, যা উন্নত শ্রবণশক্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

[Image: Doctors and the medical team at RUHS after the successful world-first surgery]

বিনা খরচে আধুনিক চিকিৎসা

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ব্যয়বহুল এবং জটিল অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে! রাজস্থান সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রীর আয়ুষ্মান আরোগ্য’ (MAA) প্রকল্পের অধীনে এই শিশুসহ মোট ছয়টি শিশুর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

RUHS-এর অধ্যক্ষ ডাঃ বিনোদ যোশী জানিয়েছেন, ইএনটি বিভাগে অস্ত্রোপচারের বিশাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে অপারেশন থিয়েটারের সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, যা দ্রুত মেটানোর চেষ্টা করছেন ডাঃ মোহনীশ গ্রোভার ও তাঁর বিশেষজ্ঞ দল।

বেঙ্গালুরু থেকে আসা অভিজ্ঞ অডিওলজিস্টদের দলও জয়পুরের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ভারতের এই জয় এখন বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।