আমেরিকার দাদাগিরি শেষ? ন্যাটো ছাড়ার পথে ফ্রান্স, ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা তাড়ানোর হুঁশিয়ারি!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের ওপর আমেরিকার যে একাধিপত্য ছিল, তাতে এবার বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি এবং আমেরিকার ওপর অতিনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে এবার রণমূর্তি ধারণ করেছে ফ্রান্স। ফরাসি পার্লামেন্টে এখন একটাই দাবি জোরালো হচ্ছে— ‘ন্যাটো ত্যাগ করো এবং আমেরিকাকে বিদায় জানাও’।
ডিজিটাল ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘ভারত মডেল’ ফ্রান্স কেবল মুখেই বলছে না, কাজেও করে দেখাচ্ছে। ভারত যেভাবে ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ডাক দিয়েছিল, ফ্রান্সও এখন সেই পথে।
-
মার্কিন সফটওয়্যার বর্জন: ফরাসি সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে মাইক্রোসফটসহ সমস্ত আমেরিকান সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
-
স্বদেশী প্রযুক্তিতে ভরসা: সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখন মার্কিন প্রযুক্তির বদলে সম্পূর্ণ ফরাসি ‘দেশীয় সফটওয়্যার’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তদন্তের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল ফ্রান্স নয়, সুর চড়িয়েছে ব্রিটেনও। প্যান্টেরার মতো মার্কিন প্রতিরক্ষা সফটওয়্যার কোম্পানিগুলি কীভাবে বড় চুক্তি পেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বদলীয় কমিটি। ইঙ্গিত মিলছে, আগামী দিনে আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনার বহু মেগা-চুক্তি বাতিল হতে পারে।
ইউরোপীয় সেনাবাহিনী: স্বপ্ন নাকি বাস্তব? ইউরোপের দেশগুলি এখন প্রশ্ন তুলছে— “আমাদের কেন আমেরিকার প্রয়োজন?”
-
পরমাণু শক্তি: ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
-
প্রতিরক্ষা ক্ষমতা: উন্নত সাবমেরিন, বিমান বাহিনী এবং বিশ্বমানের অস্ত্র কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও কেন মার্কিন সেনাদের ইউরোপে রাখা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। লক্ষ্য একটাই— ন্যাটো ভেঙে দিয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ তৈরি করা।
ন্যাটো প্রধানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও ফ্রান্সের মোক্ষম জবাব ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে দাবি করেছেন, “আমেরিকা ছাড়া ইউরোপ অসহায়।” এর জবাবে ফ্রান্স মনে করিয়ে দিয়েছে তাদের ইতিহাস। ১৯৬৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৩ বছর ফ্রান্স ন্যাটোর বাইরে থেকেও নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছিল। ফ্রান্সের সাফ কথা— “ইউরোপ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা, আর ন্যাটো মাত্র কয়েক দশকের সংগঠন। আমরা আগেও একা লড়েছি, আবারও পারব।”
নেপথ্যে ট্রাম্প ফ্যাক্টর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুরো বিদ্রোহের মূলে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এক বছর ধরে ন্যাটো দেশগুলিকে তিনি যেভাবে হুমকি দিয়েছেন, তাতে ইউরোপীয় দেশগুলি বুঝে গেছে যে আমেরিকার ওপর ভরসা করা আর নিরাপদ নয়।