রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় ভয়ংকর চাল! রূপার গয়না নিয়ে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে শ্রীঘরে ২ যুবক

হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো সাজানো ছক, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। প্রজাতন্ত্র দিবসের রাতে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ৮ কেজি রূপার গয়না হাতানোর চেষ্টা করেছিল দুই যুবক। কিন্তু পুলিশের তীক্ষ্ণ জেরার মুখে ভেঙে পড়ল তাদের ‘কোটিপতি’ হওয়ার স্বপ্ন। হরিয়ানার জিন্দের বাসিন্দা সানি এবং সন্দীপকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? অভিযুক্তরা দাবি করেছিল যে, ২৬ জানুয়ারি রাতে সাফিদন রোডের কাছে চারজন বাইক আরোহী দুষ্কৃতী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১১ কেজি রূপা লুট করে চম্পট দেয়। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের খটকা লাগে দু’টি জায়গায়— প্রথমত, এত বড় ডাকাতির ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। দ্বিতীয়ত, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো কড়া নিরাপত্তার রাতে কোনো দুষ্কৃতী এমন ঝুঁকি নেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জাগে এসপি কুলদীপ সিংয়ের মনে।
জালিয়াতির আসল কারণ: রূপার আকাশছোঁয়া দাম পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা স্বীকার করে যে, বাজারে রূপার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে লোভ কাজ করেছিল। তারা জানত যে, যেখান থেকে তারা মাল কেনে সেই সংস্থাটি সম্পূর্ণরূপে বীমা (Insurance) করা। তাই ডাকাতির নাটক সাজালে মালিক বীমার টাকা পেয়ে যেতেন আর ৮ কেজি রূপার গয়না তাদের কাছেই থেকে যেত। যা বাজারে বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
একটি ফোন কলেই ফাঁস হলো সব! দিল্লির যে ডিলারের কাছ থেকে তারা মাল কিনত, সেই ঋষভ আগরওয়াল জানান যে, ২৬ জানুয়ারি সাধারণত কোনো সাপ্লাই হয় না। পুলিশের ফোন পেয়েই তাঁর সন্দেহ হয়। পরের দিন সানি ও সন্দীপের কথায় অসংগতি ধরা পড়তেই পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশের চাপে তারা স্বীকার করে যে, গয়নাগুলো লুণ্ঠন হয়নি বরং তারাই সরিয়ে রেখেছিল।
পুলিশি তৎপরতা: সাফিদন পুলিশ অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুকানো ৮ কেজি রূপার গয়না উদ্ধার করেছে। মাধ্যমিক পাশ এই দুই বিবাহিত যুবক এখন জালিয়াতি এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় আইনি গেরোয় ফেঁসে গেছে।