রাহুলের ‘অবহেলা’ ভুলে শেষে খাড়গের ঘরে থারুর! দীর্ঘ মান-অভিমানের পর কি বরফ গলল কংগ্রেসে?

কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা আর মান-অভিমানের বরফ কি তবে গলতে শুরু করল? বৃহস্পতিবার সংসদের অলিন্দে এক ফ্রেমের একটি ছবি ঘিরে এমনটাই জল্পনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অফিসে এক বিশেষ বৈঠকে রাহুল গান্ধীর পাশে হাসি মুখে দেখা গেল বিক্ষুব্ধ বলে পরিচিত সাংসদ শশী থারুরকে।
কী নিয়ে ছিল বিবাদ? বিবাদের সূত্রপাত গত ১৯ জানুয়ারি কোঝিকোড়ে একটি প্রকাশ্য সভায়। অভিযোগ উঠেছিল, মঞ্চে থাকা সমস্ত প্রবীণ নেতার নাম নিলেও রাহুল গান্ধী ইচ্ছাকৃতভাবে শশী থারুরের নাম এড়িয়ে গিয়েছিলেন। থারুর ঘনিষ্ঠদের মতে, দলের জন্য বারবার প্রচার করা সত্ত্বেও থারুরকে এভাবে ‘নজরআন্দাজ’ করাটা ছিল অত্যন্ত অপমানজনক। এর ফলে কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি বৈঠক থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
বৈঠক শেষে কী জানালেন থারুর? খাড়গের ঘরে দীর্ঘ আলোচনার পর সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে জল্পনায় জল ঢালতে চেয়েছেন থারুর। তিনি বলেন, “আমি দলের দুই শীর্ষ নেতার সাথেই কথা বলেছি। সবকিছু ঠিক আছে। আমরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করছি।”
মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াই থেকে কি আউট থারুর? কেরলের আগামী নির্বাচনে তাঁকে কি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে জল্পনা আরও বাড়িয়ে থারুর সাফ জানান, “এই বিষয়ে আমার কারোর সাথে কোনও কথা হয়নি। আমি কোনও পদের জন্যই প্রার্থী হতে আগ্রহী নই।”
এডিটরস নোট: লোকসভা ভোটের পর থেকেই কেরল কংগ্রেসের একাংশ থারুরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে রাহুল-খাড়গের সাথে থারুরের এই সাক্ষাৎ আসলে একতা প্রদর্শনের চেষ্টা নাকি কেবলই ড্যামেজ কন্ট্রোল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েই গেল।