জঙ্গলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! খতম ২ দুর্ধর্ষ মাওবাদী, উদ্ধার একে-৪৭ ও ভয়ঙ্কর আইইডি

ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার সাতসকালে জঙ্গলের গভীরে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে দুই সশস্ত্র নকশালের। এর মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ এসিএম (ACM) পদমর্যাদার নেতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু খতম করাই নয়, নকশালদের একটি বড় নাশকতার ছকও বানচাল করে দিয়েছেন জওয়ানরা।

অপারেশন লঙ্কাপল্লি: কী ঘটেছিল সকালে? গোপন সূত্রে খবর ছিল দক্ষিণ বিজাপুরের জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে আছে একদল মাওবাদী। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সকাল ৭টা নাগাদ জেলা রিজার্ভ গার্ড (DRG) এবং ছত্তিশগড় আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (CAC)-র একটি যৌথ দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। বাহিনীকে দেখামাত্রই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে নকশালরা। জওয়ানরাও মুহূর্তের মধ্যে পজিশন নিয়ে পাল্টা জবাব দেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই গুলির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় মাওবাদীরা।

ভয়ঙ্কর মরণফাঁদ থেকে রক্ষা এনকাউন্টার চলাকালীন লঙ্কাপল্লি এলাকা থেকে প্রায় ২০ ও ৩০ কিলোগ্রাম ওজনের দু’টি শক্তিশালী আইইডি (IED) বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাস্তায় লুকানো এই বোমাগুলি সময়মতো নিষ্ক্রিয় না করা হলে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

উদ্ধার হওয়া মারণাস্ত্রের তালিকা: সংঘর্ষস্থল থেকে আধুনিক অস্ত্রের এক বিশাল ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে বাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে:

  • একটি একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল।

  • একটি ৯ মিমি পিস্তল ও একটি ৩০৩ রাইফেল।

  • বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ ও নকশাল সাহিত্য।

চলছে চিরুনি তল্লাশি বিজাপুরের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, এলাকাটি ঘন জঙ্গল এবং পাহাড় ঘেরা হওয়ায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে। মাওবাদীদের পালানোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বামপন্থী চরমপন্থা নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। চলতি বছরেই এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২২ জন মাওবাদী খতম হয়েছে। বিজাপুরের আজকের এই সাফল্য সেই লড়াইয়ে এক বড় মাইলফলক।

Editor001
  • Editor001