শিক্ষাঙ্গনে সমাজ ভাগের চক্রান্ত? ইউজিসির নতুন নিয়ম নিয়ে মোদীকে চিঠি, এবার বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের!

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) প্রবর্তিত নতুন নিয়ম নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ছত্তিশগড় সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে এই নিয়ম অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ডঃ কুলদীপ সোলাঙ্কি অভিযোগ করেছেন, এই নিয়ম শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থেই বেশি ব্যবহার করা হতে পারে।
কেন বিতর্ক এই নতুন নিয়ম নিয়ে? ইউজিসি-র ‘প্রমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস-২০২৬’ নিয়ে মূলত তিনটি বিষয়ে আপত্তি উঠেছে:
-
বিভাজনের আশঙ্কা: অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়ম জাতিগত পরিচয়কে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে তা ক্যাম্পাসের ঐক্য নষ্ট করে সমাজকে টুকরো করে দিতে পারে।
-
পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা: সাধারণ বা উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের জন্য অভিযোগ জানানোর কোনও স্পষ্ট জায়গা না থাকায় এটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে মনে করছে অনেক সংগঠন।
-
অপব্যবহারের ভয়: নথিতে অস্পষ্টতা থাকায় এই নিয়মকে হাতিয়ার করে স্বার্থসিদ্ধি বা হেনস্থা করার সুযোগ থেকে যেতে পারে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিরাট ‘থাপ্পড়’ এদিকে এই বির্তকের রেশ পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ ইউজিসি-র এই ২০২৬ সালের নতুন বিধির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
“যদি আমরা এখন হস্তক্ষেপ না করি, তবে এর প্রভাব বিপজ্জনক হতে পারে। এই নির্দেশিকা সমাজকে বিভক্ত করতে পারে।”
এমনকি ক্যাম্পাসে বর্ণ বা জাতির ভিত্তিতে আলাদা হোস্টেল তৈরির ইঙ্গিত পেয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো নিয়মই কার্যকর থাকবে।
নাগরিক সমাজের দাবি: ছত্তিশগড় সিভিল সোসাইটির আহ্বায়ক ডঃ সোলাঙ্কি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্য আনা জরুরি, কিন্তু তা যেন সমতার নামে বিভাজন তৈরি না করে। বর্তমানে এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং আগামী ১৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।