হলদোয়ানিতে জাল সার্টিফিকেটের পাহাড়! ২০০০ নথির মধ্যে ১১৫টিই ভুয়া, বড় বিপদে সাধারণ মানুষ?

উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানি তহসিল এলাকায় জাল স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র (Permanent Residence Certificate) নিয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি ফাঁস করল প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্তের পর উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য— প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়েই ১১৫টি শংসাপত্র সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেগুলিকে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিভাবে সামনে এলো এই কেলেঙ্কারি? সূত্রের খবর, কুমায়ুন কমিশনার দীপক রাওয়াতের জন আদালতে অভিযোগ জমা পড়েছিল যে, ভানভুলপুরা এলাকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং জাল নথির সাহায্যে স্থায়ী বসবাসের সার্টিফিকেট বিলি করা হচ্ছে। এর পরেই একটি সিএইচসি (CHC) সেন্টারে ঝটিকা অভিযান চালান কমিশনার। সেখানে অসংগতি ধরা পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ললিত মোহন রায়াল গত ৫ বছরে ইস্যু করা সমস্ত শংসাপত্র যাচাই করার কড়া নির্দেশ দেন।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ডেপুটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল শাহের নেতৃত্বে বর্তমানে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের মূল হাইলাইটসগুলি হলো:

  • এখনও পর্যন্ত প্রায় ২,০০০টি শংসাপত্র স্ক্যান করা হয়েছে।

  • তার মধ্যে ১১৫টি শংসাপত্র জাল নথির ভিত্তিতে তৈরি বলে শনাক্ত হয়েছে।

  • আজ এক দিনেই নতুন করে ২৫টি জাল সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।

  • তদন্তে দেখা গেছে, শংসাপত্রগুলোতে ভুল ঠিকানা, নথিতে গরমিল এবং অসম্পূর্ণ রেকর্ড রয়েছে।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি: এসডিএম রাহুল শাহ জানিয়েছেন, এই তল্লাশি অভিযান থামবে না। গত ৫ বছরে যত সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটি রেকর্ড মিলিয়ে দেখা হবে। এই জালিয়াতির পেছনে কোনো বড় চক্র সক্রিয় কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর হলদোয়ানি জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা সিএইচসি সেন্টার বা দালালদের মাধ্যমে নথি তৈরি করিয়েছিলেন, তাদের ঘুম উবেছে।

Editor001
  • Editor001