লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ কেন? ৭০০০ মহিলার প্রশ্নে নড়েচড়ে বসল কলকাতা হাইকোর্ট, রাজ্যের কাছে তলব রিপোর্ট!

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের মুখে রাজ্য সরকার। গত পাঁচ মাস ধরে প্রকল্পের টাকা না পেয়ে শেষমেশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৭ হাজার মহিলা। কেন বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যের কাছে কৈফিয়ত চাইল উচ্চ আদালত।
মামলাকারীদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই ৭ হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের একটি টাকাও ঢোকেনি। বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি আধিকারিকদের জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মহিলারা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
শুনানি চলাকালীন মামলাকারীদের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এক বিস্ফোরক দাবি তোলেন। তিনি জানান, জেলা শাসকের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা থাকলেও শুধুমাত্র বিজেপি পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আইনজীবীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে? যদিও রাজ্যের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকা নিয়ে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার কারণেই প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত কড়া অবস্থান নিয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী কারণে ৫ মাস ধরে টাকা বন্ধ এবং কবে নাগাদ এই মহিলারা তাঁদের বকেয়া টাকা পাবেন, তা রিপোর্টে স্পষ্ট করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে হাজার হাজার মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হওয়া শাসক শিবিরের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।