ছাব্বিশের ভোটে মহাধামাকা! সেলিমের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হুমায়ুন কবীর, নতুন জোটের ইঙ্গিত?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। রাজারহাট নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে বামফ্রন্টের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বির্তকিত তথা প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীরের মধ্যে দীর্ঘ এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি ভোটের আগে নতুন কোনো ফ্রন্ট বা জোটের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা?
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে প্রধানত আসন সমঝোতা এবং ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার গতিপ্রকৃতি যথেষ্ট সদর্থক। অন্যদিকে, মহম্মদ সেলিম কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিলেও বৈঠকের কথা অস্বীকার করেননি। সেলিম জানান, “উনি (হুমায়ুন) ঠিক কী করতে চাইছেন এবং ওঁর রাজনৈতিক অভিপ্রায় কী, তা জানতেই এই আলোচনা। তবে জোটের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; যা হবে তা দলের অভ্যন্তরে আলোচনার পরেই জানানো হবে।”
তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে। এর আগে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিআইএম-এর নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এবার সরাসরি হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের রাজনীতিতে পরিচিত এবং ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির দাবি তোলা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের মাখামাখি বামপন্থী ভাবাবেগের পরিপন্থী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এই ইস্যু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই শিবিরই আক্রমণাত্মক। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “সিপিআইএম রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। এখন প্রাসঙ্গিক থাকতে তারা যে কারও দরজায় ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।” অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জনভিত্তি হারিয়ে বামেরা এখন বিভাজনের রাজনীতি করা নেতাদের শরণাপন্ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটের আগে সেলিম-হুমায়ুন সাক্ষাৎ বাংলার রাজনীতির জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।