বারামতীতে জনসমুদ্র! চোখের জলে প্রিয় ‘দাদা’কে শেষ বিদায় মহারাষ্ট্রের, ভিড় সামলাতে হিমশিম পুলিশ

বৃহস্পতিবার এক বিষণ্ণ সকালের সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের বারামতী। নিস্তব্ধতা, অশ্রুসজল চোখ আর ভারী হৃদয়ে বিদায় জানানো হলো রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে। এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। আজ সকালে যখন তাঁর শেষকৃত্য শুরু হয়, তখন গোটা শহর যেন থমকে গিয়েছিল। হাজার হাজার সমর্থক রাস্তার দুধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান। ফুলে সজ্জিত শবযানটি যখন এগোচ্ছিল, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান ওঠে— “অজিত দাদা অমর রহে!”

জনতার আবেগ ও শেষ শ্রদ্ধা বারামতী কেবল অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক দুর্গ ছিল না, ছিল তাঁর ঘর। শেষকৃত্যের মিছিলে দেখা গেল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি। তরুণ থেকে বৃদ্ধ, গৃহবধূ থেকে কৃষক—সবাই এসেছেন তাঁদের ‘দাদাকে’ শেষ বিদায় জানাতে। অনেকের চোখেই জল, কেউ আবার হাত জোড় করে নীরবে প্রার্থনা করছেন। সমর্থকদের কথায়, অজিত পাওয়ার কেবল একজন নেতাই ছিলেন না, ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো। তিন দশকের বেশি সময় ধরে যে মানুষটি বারামতীর প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর বিদায়বেলা এতটাই আবেগঘন হবে, তা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন দেশের হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সহ একাধিক শীর্ষনেতা বারামতীতে পৌঁছে শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ নজর কেড়েছিল পরিবারের উপস্থিতি। শরদ পাওয়ারের পাশাপাশি অজিত পাওয়ারের পুত্র জয় পাওয়ার এবং ভাইপো রোহিত পাওয়ারকে অত্যন্ত ভেঙে পড়তে দেখা যায়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এদিন বিদায় জানানো হলো এক বলিষ্ঠ প্রশাসককে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মরদেহ তেরঙ্গায় মুড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদ্যা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মাঠজুড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সিআরপিএফ। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে, তবে আপাতত সেই শোকাতুর পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে পারছে না মহারাষ্ট্র। অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক অবদান এবং তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলি আগামী দিনেও রাজ্য রাজনীতিতে আলোচিত হবে।